বৌদ্ধ ধর্মের পবিত্র তীর্থ সারনাথের ঐতিহাসিক জয়! ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের মর্যাদা পেল ভারতের ৪৫তম স্থান – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের ভাণ্ডারে যুক্ত হলো আরও এক অনন্য গৌরবময় অধ্যায়। বৌদ্ধ ধর্মের অন্যতম পবিত্র ও ঐতিহাসিক তীর্থস্থান সারনাথ (Sarnath) আনুষ্ঠানিকভাবে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য স্থান (UNESCO World Heritage Site)-এর মর্যাদায় ভূষিত হয়েছে। এর মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে সারনাথের প্রাচীন স্থাপত্য ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মিলল।
চলতি বছরের ২৫ জুলাই ইউনেস্কোর ৪৮তম অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে এই ঐতিহাসিক প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। এই অর্জুনের ফলে ভারতের বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৪৫টিতে। কেন্দ্রীয় সরকারের নিরলস কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং নিয়মিত অনুসরণের ফলেই এই বহুকাঙ্খিত সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।
সারনাথের ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক গুরুত্ব
উত্তরপ্রদেশের বারাণসীর অত্যন্ত কাছে অবস্থিত সারনাথ বৌদ্ধ ধর্মের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত।
- প্রথম ধর্মচক্র প্রবর্তন: খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতে তথাগত গৌতম বুদ্ধ তাঁর বোধিলাভের পর এই পবিত্র মাটিতেই প্রথম ধর্মচক্র প্রবর্তন করেছিলেন।
- মৃগদাব বা ডিয়ার পার্ক: ঐতিহাসিক এই স্থানেই বুদ্ধ তাঁর প্রথম পাঁচ সন্ন্যাসী শিষ্যকে দীক্ষা ও উপদেশ দিয়েছিলেন, যা বৌদ্ধ ধর্মের সার্বিক প্রসারের পথ প্রশস্ত করেছিল।
- মূল্যবান নিদর্শন: সারনাথের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে বিখ্যাত ধমেক স্তূপ, বিশ্বখ্যাত অশোক স্তম্ভের অবশেষ এবং প্রাচীন মঠ ও বিহারের অমূল্য ধ্বংসাবশেষ। চিনা পর্যটক ফা-হিয়েন ও হিউয়েন সাং-এর ভ্রমণ বিবরণীতেও এই স্থানের সুনির্দিষ্ট উল্লেখ রয়েছে।
সরকারের উদ্যোগ ও পর্যটনের নতুন দিগন্ত
এই ঐতিহাসিক সাফল্যকে দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য অত্যন্ত গর্বের মুহূর্ত বলে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি জানান, এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ভারতের প্রাচীন সভ্যতা ও বৌদ্ধ ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চে আরও অনেক বেশি উজ্জ্বল করবে। সংস্কৃতি মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই স্বীকৃতির ফলে এখন থেকে সারনাথের যথাযথ সংরক্ষণ, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং বিশ্বমানের পর্যটন প্রসারে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও তহবিল প্রাপ্তি আরও সহজ হবে।
আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া (ASI)-এর তত্ত্বাবধানে গত কয়েক বছর ধরে সারনাথের সংরক্ষণ, বিজ্ঞানভিত্তিক খননকার্য এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বড় বিনিয়োগ করা হয়েছে। অজন্তা-ইলোরা, তাজমহল বা নালন্দা মহাবিহারের দীর্ঘ তালিকার পাশে এবার বারাণসীর সারনাথের এই অন্তর্ভুক্তি ভারতের পর্যটন মানচিত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ করল।
