ভবানীপুরের রণক্ষেত্রে মমতা শুভেন্দুর সম্মুখ সমর, প্রচারের উত্তাপে তপ্ত রাজ্য রাজনীতি – এবেলা

ভবানীপুরের রণক্ষেত্রে মমতা শুভেন্দুর সম্মুখ সমর, প্রচারের উত্তাপে তপ্ত রাজ্য রাজনীতি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নির্বাচনের অন্তিম লগ্নে এসে কলকাতার হাইভোল্টেজ কেন্দ্র ভবানীপুরে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোটের আগে প্রচারের ময়দানে সম্মুখসমরে অবতীর্ণ হয়েছেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার বিকেলে চক্রবেড়িয়া রোডে দুই হেভিওয়েট নেতার প্রচারকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়, যার ফলে মাঝপথেই বক্তৃতা থামিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে মঞ্চ ছাড়তে হয় তৃণমূলনেত্রীকে।

মাইক যুদ্ধ ও মমতার সভা ত্যাগ

তৃণমূলের অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভার মাত্র ১০০ মিটার দূরে বিজেপির পথসভায় অত্যন্ত উচ্চস্বরে মাইক বাজিয়ে বিঘ্ন ঘটানো হচ্ছিল। শব্দের তীব্রতায় বিরক্তি প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত জনতার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়ে ভাষণ আসামাপ্ত রেখেই সভাস্থল ত্যাগ করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই শিবিরের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, যা সামাল দিতে পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়।

পরাজয়ের আতঙ্কে মুখ্যমন্ত্রী, দাবি শুভেন্দুর

মুখ্যমন্ত্রীর মঞ্চ ছাড়ার বিষয়টিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দাবি করেন, পরাজয় নিশ্চিত বুঝেই মুখ্যমন্ত্রী ভয় পেয়ে রণে ভঙ্গ দিয়েছেন। পাল্টা অভিযোগে শুভেন্দু জানান, তৃণমূল কর্মীরাই বরং বিজেপির সভা বানচাল করার চেষ্টা করছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুর ও কালীঘাট থানার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে নালিশ জানানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

২৯ এপ্রিলের ভাগ্য নির্ধারণ

আগামী ২৯ এপ্রিল ভবানীপুর কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বাকযুদ্ধ ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ মূলত ভোটারদের মেরুকরণের চেষ্টা। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের গড় রক্ষার লড়াই, অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারীর আধিপত্য বিস্তারের চ্যালেঞ্জ। ৪ মে ফলপ্রকাশের দিনই স্পষ্ট হবে এই মর্যাদার লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কার জয় হয়।

এক ঝলকে

  • ভবানীপুরের চক্রবেড়িয়া রোডে প্রচার চলাকালীন শব্দের তীব্রতায় বিরক্ত হয়ে মাঝপথেই সভা ছাড়লেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
  • মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রস্থানকে আসন্ন পরাজয়ের লক্ষণ ও হারের আতঙ্ক বলে কটাক্ষ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী।
  • প্রচারকাজে বাধার অভিযোগে ভবানীপুর ও কালীঘাট থানার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী।
  • ২৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণ এবং ৪ মে ফলপ্রকাশের মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হবে ভবানীপুরের এই মহাযুদ্ধের ফলাফল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *