ভয়মুক্ত বাংলা গড়ার ডাক দিয়ে মমতার হারে বিস্ফোরক বিবেক অগ্নিহোত্রী

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয় এবং বিজেপির বিপুল জয়ের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন চলচ্চিত্র নির্মাতা বিবেক অগ্নিহোত্রী। বাংলার এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়ে তিনি একে ‘সত্যের জয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। সেই সঙ্গে বিগত বছরগুলোতে রাজ্যে তাঁর চলচ্চিত্র প্রদর্শনে বাধা এবং ব্যক্তিগত হেনস্তার তিক্ত স্মৃতি উগরে দিয়েছেন এই পরিচালক।
পুরনো তিক্ততা ও লড়াইয়ের স্মৃতি
বিবেক অগ্নিহোত্রী দাবি করেছেন, তৎকালীন মমতা সরকার পরিকল্পিতভাবে তাঁর ছবি ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ এবং ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ প্রদর্শনে বাধা সৃষ্টি করেছিল। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে তাঁকে অঘোষিতভাবে বয়কট করা হয়েছিল এবং প্রেক্ষাগৃহ থেকে তাঁর সিনেমা সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। এমনকি ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’-এর ট্রেলার লঞ্চের সময় তাঁর ওপর শারীরিক হামলা এবং একাধিক আইনি মামলা দায়ের করা হয়েছিল বলেও তিনি সরব হয়েছেন। পরিস্থিতির এতটাই অবনতি হয়েছিল যে, রাজ্যপালের হাত থেকে পুরস্কার নিতেও তিনি বাংলায় আসার সাহস পাননি। তবে এই প্রতিকূলতার মাঝেও তিনি গোপনে ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ বাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার কাজ চালিয়ে গেছেন বলে দাবি করেন।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর একটি পুরনো ভিডিও শেয়ার করে বিবেক মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, সেন্সর বোর্ড বা সিবিএফসি অনুমোদিত ছবি প্রদর্শনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ছিল তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর সাংবিধানিক কর্তব্য। বাংলার ইতিহাসকে একটি ‘বেদনাদায়ক অধ্যায়’ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি সেখানে ঘটে যাওয়া হিন্দু গণহত্যার প্রসঙ্গও পুনরায় উত্থাপন করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিবেকের এই বিস্ফোরক মন্তব্য এবং চলচ্চিত্র নিয়ে তাঁর অনড় অবস্থান রাজ্যে আগামী দিনে শিল্প ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্নে নতুন বিতর্ক উসকে দিতে পারে। দীর্ঘ আইনি ও সামাজিক লড়াইয়ের পর এই জয়কে তিনি সাধারণ মানুষের মুক্তি হিসেবে দেখছেন এবং দেশবাসীকে এখন থেকে ‘নির্ভয়ে মাথা উঁচু করে’ চলার আহ্বান জানিয়েছেন।
