ভয়াবহ ভুল পাক পুলিশের! ডাকাত ভেবে পর্যটকদের গাড়িতে দেদার গুলি, নিহত ৯ বছরের অস্ট্রেলীয় শিশু – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ইসলামাবাদ: চরম অপেশাদারিত্ব ও ভুলের মাশুল দিতে হলো এক নিষ্পাপ শিশুকে। পাকিস্তানে ঘুরতে এসে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারাল ৯ বছরের এক অস্ট্রেলীয় কন্যা। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের চাকওয়াল এলাকায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়া— দুই দেশেই তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, নিহত শিশুটির নাম হানিয়া আহমেদ। সে অস্ট্রেলিয়ার পার্থ শহরের বাসিন্দা ছিল। পরিবারের সঙ্গে পাকিস্তানের আত্মীয়দের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল হানিয়া। গত ১০ জুনের এই ঘটনার পর অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এই ঘটনার একটি স্বচ্ছ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
ঠিক কী ঘটেছিল সেই রাতে?
ঘটনার দিন রাতে হানিয়ার পরিবার গাড়ি করে তাঁদের আত্মীয়ের বাড়ির সামনে পৌঁছাতেই দুই সশস্ত্র দুষ্কৃতী তাঁদের পথ আটকায়। নগদ টাকা ও গয়না ছিনতাইয়ের চেষ্টা করতে থাকে ডাকাতরা। সেই সময় কাছেই ডিউটিতে থাকা পুলিশ কর্মীরা ছিনতাইয়ের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে দুষ্কৃতীদের সঙ্গে তাঁদের গুলির লড়াই শুরু হয়।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে হানিয়ার বাবা আদিল আহমেদ পরিবারকে বাঁচাতে গাড়ি চালিয়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তখনই ঘটে আসল বিপর্যয়। পুলিশ রাতের অন্ধকারে ভুলবশত দুষ্কৃতীদের গাড়ি ভেবে ওই অস্ট্রেলীয় পরিবারের গাড়িটিকে লক্ষ্য করেই এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে।
বুলেটে ঝাঁঝরা গাড়ি, তদন্তের নির্দেশ:
পুলিশের চালানো গুলিতে ঘটনাস্থলেই মারাত্মক জখম হয় ৯ বছরের হানিয়া। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শুধু হানিয়াই নয়, পুলিশের গুলিতে জখম হয়েছেন তার বাবা আদিল আহমেদ এবং তার ভাইও। ভাইয়ের শরীরে জটিল অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর পাকিস্তান পুলিশ নিজেদের মারাত্মক ভুল স্বীকার করেছে। পরিস্থিতি সঠিকভাবে না বুঝে গুলি চালানোর অপরাধে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মীদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত ও গ্রেপ্তার করে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। গাড়িটির ফরেনসিক তদন্তও শুরু হয়েছে।
মেয়ের এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন বাবা আদিল আহমেদ। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, “আমি শুধু আমার মেয়ের হত্যার বিচার চাই না, ভবিষ্যতে আর কোনও পরিবার যেন পুলিশের এমন খামখেয়ালিপনার শিকার না হয়, সেই ব্যবস্থাও চাই।” এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানের পুলিশের প্রশিক্ষণ এবং দায়িত্বজ্ঞানহীনতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেছে।
