ভয় আউট, ভরসা ইন! বীরভূম জেলা পরিষদে এবার ‘থ্রেট কালচার’ বন্ধের দাবিতে পড়ল পোস্টার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বীরভূমে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহ এবার সরকারি দপ্তরের অন্দরেও প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। বীরভূম জেলা পরিষদের ভেতরে একাধিক পোস্টার সাঁটিয়ে তথাকথিত ‘থ্রেট কালচার’ বা ভয় দেখানোর রাজনীতি অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি তোলা হয়েছে। শনিবার সকালে জেলা পরিষদের কর্মীরা অফিসে এসে প্রথম এই পোস্টারগুলি দেখতে পান। জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ নুরুল ইসলামের কক্ষের বাইরেও একটি পোস্টার সাঁটানো ছিল, যা নিয়ে বর্তমানে জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
ঠিকাদারদের দাপট ও ভয়ের পরিবেশ
স্থানীয় সূত্র ও জেলা পরিষদের কর্মীদের একাংশের দাবি, পোস্টারে কয়েকজন নির্দিষ্ট বহিরাগত ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। কাদির, সাদ্দাম, পলাশ, জসিম, প্রভাত ও বশিরুল নামের যে ব্যক্তিদের নাম পোস্টারে রয়েছে, তারা পেশায় ঠিকাদার। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই ঠিকাদারেরা জেলা পরিষদের কর্মী ও আধিকারিকদের উপর অশুভ প্রভাব বিস্তার করতেন এবং দপ্তরের ভেতরে একটি ভয়ভীতির পরিবেশ তৈরি করে রাখতেন। রাজনৈতিক পরিবর্তনের সাথে সাথেই দীর্ঘদিন ধরে চেপে রাখা সেই ক্ষোভ এবার পোস্টারের আকারে প্রকাশ পেয়েছে।
প্রভাব ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনার ফলে জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কাজকর্মে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা ভয়ভীতির পরিবেশ দূর হলে সরকারি কর্মচারীরা আরও স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবেন বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এই পোস্টার বিতর্ককে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা।
বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক জেলার সভাপতি উদয় শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রসঙ্গে জানান, পোস্টার কারা দিয়েছে তা জানা না থাকলেও সেখানে যে বিষয়গুলি উল্লেখ করা হয়েছে, তা দীর্ঘদিনের রূঢ় বাস্তবতা। ভয় দেখিয়ে প্রশাসন চালানোর সংস্কৃতি গণতন্ত্রে গ্রহণযোগ্য নয় এবং সকলের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে, বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখ এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি জানান, পোস্টার তিনি দেখেননি এবং কারা কী উদ্দেশ্যে এই পোস্টার লাগিয়েছে, তা না জেনে কোনো মন্তব্য করবেন না।
