ভাড়ার লোভে ৭ প্রাণের অকালবলি: সত্য নিকেতনে ৬ তলা ভবন ধসে ট্র্যাজেডি, গুঁড়ো করা হচ্ছে পাশের বিপজ্জনক বাড়িও – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
নয়াদিল্লি: দক্ষিণ দিল্লির সত্য নিকেতনে বহুতল আবাসন ভেঙে পড়ে সাতজনের করুণ মৃত্যুর ঘটনায় সামনে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ৫০ বছরের পুরোনো কাঠামোর দুর্বল ভিতের ওপর কেবল অতিরিক্ত ভাড়ার লোভে বেআইনিভাবে আরও চার তলা তৈরি করা হয়েছিল। ভবনের ভার বহনের ক্ষমতা সীমার বাইরে চলে যাওয়ার কারণেই এই মর্মান্তিক বিপর্যয় ঘটে।
গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে অবশিষ্টাংশ ও পাশের বিপজ্জনক ভবন দুর্ঘটনার পরই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে দিল্লি পুরনিগম (MCD)। ভাঙা বাড়ির অবশিষ্ট অংশ বুধবারের মধ্যেই পুরোপুরি ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, দুর্ঘটনাস্থলের ঠিক পাশের বাড়িটিকেও অত্যন্ত বিপজ্জনক ও দুর্বল বলে চিহ্নিত করেছে পুরসভা। MCD কমিশনার সঞ্জীব খিরওয়ার জানান, পাশের বাড়িটির কাঠামো আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে। আপাতত পরিস্থিতি সামলাতে ১৮-২০টি লোহার গার্ডরেল দিয়ে সাময়িক সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হলেও আগামী এক-দু’দিনের মধ্যে পরিকল্পিত উপায়ে বাড়িটি ভেঙে ফেলা হবে।
পিলার ও বিম ছাড়াই তৈরি করা হয়েছিল বাড়ি! পুলিশের এফআইআরে (FIR) ৮১ বছর বয়সী বাড়ির মালিক হরিরাম গুপ্তার বিরুদ্ধে গুরুতর গাফিলতির অভিযোগ আনা হয়েছে। সিভিল ইঞ্জিনিয়ার ও তদন্তকারীদের মতে, ভবনটির গ্রাউন্ড ফ্লোরে প্রয়োজনীয় পিলার ও বিমই ছিল না। ৫০ বছরের পুরোনো দুর্বল ভিত সত্ত্বেও কেবল বাড়তি উপার্জনের আশায় একের পর এক তলা যোগ করা হয়, যা শেষপর্যন্ত আস্ত বিল্ডিংটিকে মৃত্যুফাঁদে পরিণত করে।
৩০টি ঘরে ৭৫ বেড, গাদাগাদি করে থাকতেন পড়ুয়ারা ধসে পড়া ভবনটিতে ‘Hostel Daze’ নামে একটি পেয়িং গেস্ট (PG) চলত। মাত্র ৩০টি সংকীর্ণ ঘরে গাদাগাদি করে রাখা হয়েছিল ৭৫টি বেড। প্রতি মাসে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে এক একটি ছোট ঘরে দুই থেকে তিন জন ছাত্র থাকতেন। রবিবার দুপুরে হঠাৎ করেই পুরো ভবনটি হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। এই ঘটনায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের (DU) পাঁচ ছাত্র— অভিষেক কুমার, যুবরাজ সোনি, পবন কুমার, অর্পিত জাহাজ ও অক্ষত সিংহ যাদব সহ মোট ৭ জনের অকালমৃত্যু ঘটে। মৃত অপর দুজন হলেন দুই প্রবীণ ও তরুণ শ্রমিক।
মালিকসহ ৩ জন গ্রেফতার, দিল্লিজুড়ে পিজি অডিটের নির্দেশ দুর্ঘটনার পর রাজস্থানের ভিওয়াড়ি থেকে মূল অভিযুক্ত মালিক হরিরাম গুপ্তা, তাঁর স্ত্রী উর্মিলা গুপ্তা এবং ছেলে মহেশ গুপ্তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। হরিরাম ও তাঁর স্ত্রীকে ১৪ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজত এবং ছেলেকে ২ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
এই দুর্ঘটনার জেরে গোটা দিল্লির পিজি ব্যবস্থার সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে রাজধানীর সমস্ত পিজি ভবনের ‘স্ট্রাকচারাল অডিট’ (কাঠামোগত পরীক্ষা) করার নির্দেশ দিয়েছেন। ইতিমধ্যেই সত্য নিকেতন এলাকার আরও ছ’টি আবাসন সিল করে দিয়েছে MCD।
