ভারতীয়দের জন্য জ্যাকপট! দক্ষিণ ভারতে নতুন সোনার খনির হদিস, বছরে কত কেজি সোনা পাওয়া যাবে জানেন? – এবেলা

ভারতীয়দের জন্য জ্যাকপট! দক্ষিণ ভারতে নতুন সোনার খনির হদিস, বছরে কত কেজি সোনা পাওয়া যাবে জানেন? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বিশ্বজুড়ে অস্থির পরিস্থিতিতে যখন সোনার দাম আকাশছোঁয়া, ঠিক তখনই অন্ধ্রপ্রদেশের কুর্নুল জেলায় এক বিশাল সোনার খনির সন্ধান ভারতের অর্থনীতিতে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। জোননাগিরি গোল্ড প্রজেক্ট নামের এই খনিটি স্বাধীনতার পর দেশের প্রথম বেসরকারি খনি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে। ৪২.৫ টনের বিশাল মজুত নিয়ে প্রকল্পটি এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায়, যা আগামী মে মাসেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে পারে।

সোনার আমদানিতে বড় প্রভাব ভারত প্রতি বছর গড়ে প্রায় এক হাজার টন সোনা আমদানি করে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারে বড় চাপ সৃষ্টি করে। কুর্নুলের এই খনি থেকে বছরে প্রায় ১,০০০ কেজি সোনা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ১৫ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে এই উৎপাদন বজায় থাকলে বিদেশের ওপর ভারতের নির্ভরশীলতা অনেকটাই হ্রাস পাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আধুনিক প্রযুক্তি ও কর্মসংস্থান প্রায় ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে নির্মিত এই উন্মুক্ত খনিটিতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আকরিক থেকে সোনা পৃথক করা হবে। ৬০০ হেক্টর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই প্রকল্পের মাধ্যমে সরাসরি ৫০০ জনের এবং পরোক্ষভাবে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। প্রাথমিক পরীক্ষা সফল হওয়ার পর এখন ২০২৬ সালের মে মাসের মধ্যে পুরোদমে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতি চলছে।

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার পথে মাইলফলক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা যখন বিশ্বব্যাপী তুঙ্গে, তখন দেশের অভ্যন্তরে এমন আবিষ্কার ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে। জোননাগিরি ছাড়াও চিত্তুর ও রামগিরির মতো এলাকাগুলোতেও সোনার অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। দেশীয় উৎপাদন বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা থাকলেও ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে সোনার দাম ও সরবরাহে এক ধরনের ভারসাম্য বজায় থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এক ঝলকে

  • অন্ধ্রপ্রদেশের কুর্নুলে ভারতের প্রথম বড় আকারের বেসরকারি সোনার খনি চালু হচ্ছে।
  • এই খনিতে আনুমানিক ৪২.৫ টন বা ৪২,৫০০ কেজি সোনার মজুত রয়েছে।
  • আগামী ১৫ বছর ধরে প্রতি বছর প্রায় ১,০০০ কেজি সোনা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
  • প্রকল্পটির মাধ্যমে কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান ও স্থানীয় অর্থনীতির উন্নয়নের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *