ভারত ও রাশিয়ার সামরিক চুক্তির জবাবে ইউক্রেনের বড় পদক্ষেপ

ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে ঐতিহাসিক ‘রিলস’ (RELOS) চুক্তির ঘোষণার রেশ কাটতে না কাটতেই বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। রুশ পোর্টালে এই চুক্তির নথিপত্র প্রকাশের ঠিক ২৪ ঘণ্টার মাথায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ভারতের সঙ্গে একটি বড় ধরনের নিরাপত্তা সহযোগিতা চুক্তির ইঙ্গিত দিয়েছেন। রাশিয়ার সাথে ভারতের ক্রমবর্ধমান সামরিক ঘনিষ্ঠতা এবং ৩০০০ সৈন্যসহ রণতরী ও যুদ্ধবিমান মোতায়েনের অনুমতির বিষয়টি কিয়েভকে বিচলিত করেছে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
কৌশলগত ভারসাম্য ও ইউক্রেনের উদ্বেগ
দীর্ঘদিন ধরে চলা রাশিয়ার বিধ্বংসী হামলায় বিপর্যস্ত ইউক্রেন এখন শান্তির জন্য ভারতের মধ্যস্থতাকে সবচেয়ে কার্যকর পথ হিসেবে দেখছে। জেলেনস্কির মতে, ইউরোপীয় দেশগুলোর সহায়তা পেলেও তা রাশিয়ার হামলা থামাতে যথেষ্ট হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে ভারতের প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে মস্কোকে আলোচনার টেবিলে আনতে চাইছে কিয়েভ। সম্প্রতি ইউক্রেনের জাতীয় নিরাপত্তা সচিব রুস্তম উমেরভ দিল্লি সফর করে অজিত ডোভাল ও এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, যা এই নিরাপত্তা চুক্তির ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।
বিশ্বমঞ্চে ভারতের কূটনৈতিক সাফল্য
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ২০২৪ সালের ইউক্রেন সফর এবং রাশিয়ার সঙ্গে চলমান সামরিক বাণিজ্য—উভয় ক্ষেত্রেই ভারত তার নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে। জেলেনস্কি ভারতের সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তি চূড়ান্ত করার যে ঘোষণা দিয়েছেন, তা মূলত পশ্চিমা দেশগুলোর সাহায্য কমে আসা এবং অস্ত্রের সংকটের বিপরীতে একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা কবচ তৈরির চেষ্টা। এর ফলে ভারত একই সাথে দুই বিবদমান শক্তির কাছে নিজের গুরুত্ব প্রমাণ করে বিশ্ব রাজনীতিতে এক অনন্য কৌশলগত উচ্চতায় পৌঁছে গেল।
এক ঝলকে
- রাশিয়া ও ভারতের মধ্যে ‘রিলস’ চুক্তির অধীনে ৩০০০ সৈন্য ও রণতরী মোতায়েনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
- রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি প্রকাশের একদিন পরেই ভারতের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতার ঘোষণা দিলেন জেলেনস্কি।
- ইউক্রেনের নিরাপত্তা সচিবের দিল্লি সফরে শান্তি ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে ভারত।
- পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক সহায়তা হ্রাস পাওয়ায় ভারতকেই এখন প্রধান ভরসা মানছে ইউক্রেন।
