‘ভারত-চিন হাত মেলালে লাভ গোটা বিশ্বের’, ৫ বছর পর নয়া দিল্লিতে পা রেখে সুর নরম চিনা প্রেসিডেন্টের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
September 13, 20261:34 pm
দীর্ঘ পাঁচ বছরের সীমান্ত-শত্রুতা আর টানাপোড়েনের পর অবশেষে কি ভারত-চিন সম্পর্কে বরফ গলছে? ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অন্তত সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। নয়া দিল্লিতে পা রেখেই জিনপিং স্পষ্ট বার্তা দিলেন— ভারত ও চিন একে অপরের প্রতিযোগী নয়, বরং পরিপূরক। দুই দেশ একসঙ্গে হাত মিলিয়ে চললে তা গোটা বিশ্বের জন্যই এক নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।
বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো একনজরে:
- উষ্ণ অভ্যর্থনা ও অভিনন্দন: বৈঠকের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী মোদী চিনা প্রেসিডেন্টকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। পাল্টা ভারতের সফল ব্রিকস সভাপতিত্বের জন্য মোদীকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান শি জিনপিং। তিনি এও স্মরণ করিয়ে দেন যে, গত কয়েক বছরে তাঁদের মধ্যে ২০ বারেরও বেশি সাক্ষাৎ হয়েছে, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মজবুত করতে অনেকটাই সাহায্য করেছে।
- উন্নয়নে যৌথ অংশীদারি: চিনা প্রেসিডেন্টের মতে, বিশ্বের সর্বাধিক জনবহুল এই দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্র যদি একে অপরের শক্তি থেকে শিক্ষা নিয়ে যৌথ উন্নয়নের পথে হাঁটে, তবে ‘গ্লোবাল সাউথ’ তথা গোটা বিশ্বের অর্থনীতি প্রভূত লাভবান হবে।
- বহুকেন্দ্রিক বিশ্বের পক্ষে সওয়াল: চলতি বছর ব্রিকস সহযোগিতার ২০তম বার্ষিকী। এই আবহে জিনপিং জানান, বর্তমান অস্থিতিশীল বিশ্বে ক্ষমতার রাজনীতি এবং একপাক্ষিকতা ক্রমশ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে উদীয়মান বাজার ও উন্নয়নশীল দেশগুলোকে রক্ষা করতে ভারত ও চিনকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মত: বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে সীমান্ত ইস্যুতে ভারত ও চিনের মধ্যে যে উত্তেজনার পারদ চড়েছিল, এই মুখোমুখি বৈঠক সেই আবহে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশারদদের মতে, একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বহুকেন্দ্রিক বিশ্ব গড়ে তুলতে চিনা প্রেসিডেন্টের এই বন্ধুত্বের বার্তা আগামী দিনের বিশ্ব কূটনীতিতে এক বিরাট প্রভাব ফেলতে চলেছে।
