ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ৬০০ কিমি ‘ডার্ক জোন’ নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রশাসন, নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিএসএফের বিশেষ পরিকল্পনা – এবেলা

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ৬০০ কিমি ‘ডার্ক জোন’ নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রশাসন, নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিএসএফের বিশেষ পরিকল্পনা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘ সীমান্ত হিসেবে পরিচিত ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের একটি বিশাল অংশ এখনো অরক্ষিত রয়ে গেছে। মোট ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই বর্ডারের প্রায় ৬০০ কিলোমিটার এলাকা এখনো ‘ডার্ক জোন’ হিসেবে চিহ্নিত, যেখানে পর্যাপ্ত কাঁটাতারের বেড়া নেই। দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান, ঘন জঙ্গল, নদী এবং প্রতিকূল পরিবেশের কারণে ২০১৫ সাল থেকে চেষ্টা করেও এই অঞ্চলকে কাঁটাতারের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। অত্যন্ত সংবেদনশীল এই ডার্ক জোনগুলো বর্তমানে দুই দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের ৬ জেলায় মূল সংকট

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ডার্ক জোনের সিংহভাগই রয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। রাজ্যের মোট ২ হাজার ২১৭ কিলোমিটার সীমান্তের মধ্যে প্রায় ১ হাজার৬০০ কিলোমিটারে কাঁটাতার থাকলেও বাকি ৬০০ কিলোমিটার এলাকা এখনো উন্মুক্ত। এই ডার্ক জোন মূলত পশ্চিমবঙ্গের ছয়টি জেলা—মুর্শিদাবাদ, মালদা, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কোচবিহার ও জলপাইগুড়িতে অবস্থিত। এর মধ্যে প্রায় ১৭৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে রয়েছে নদী ও জলভূমি। এই প্রত্যন্ত অঞ্চলের কিছু গ্রামে পৌঁছানো যেমন দুষ্কর, তেমনই ঘন জঙ্গল ও খাঁড়ির কারণে সেখানে সূর্যের আলো পর্যন্ত ঠিকমতো পৌঁছায় না এবং মোবাইল নেটওয়ার্কও অত্যন্ত দুর্বল।

অনুপ্রবেশের ঝুঁকি ও বিএসএফের আধুনিক প্রযুক্তিগত পরিকল্পনা

এই ডার্ক জোনগুলোর ভৌগোলিক সুবিধা নিয়ে সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ, জঙ্গি তৎপরতা এবং দুষ্কৃতীমূলক কর্মকাণ্ডের ঝুঁকি ক্রমাগত বাড়ছে। দুর্গম নদীপথ ও ঘন জঙ্গলকে কাজে লাগিয়ে অপরাধচক্র সক্রিয় থাকার কারণে এই সীমান্তকে নিশ্ছিদ্র করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

যেহেতু এই সব এলাকায় ঐতিহ্যগত উপায়ে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করা কার্যত আসাম্ভব, তাই বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (BSF) এখানে বিকল্প ও আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছে। সীমান্ত সুরক্ষায় বিএসএফ এখন ‘কম্প্রিহেনসিভ ইন্টিগ্রেটেড বর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ (CIBMS) বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করেছে। এর অধীনে দুর্গম ও নদীমাতৃক সীমান্তে লেসার ওয়াল, থার্মাল ইমেজার, আন্ডারওয়াটার সেন্সর এবং ইনফ্রারেড ক্যামেরা মোতায়েন করা হবে। এই আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে ভৌত পরিকাঠামো ছাড়াই ডার্ক জোনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *