ভালোবাসার চরম পরিণতি, বিয়ের ১৫ দিনের মাথায় প্রেমিকার প্রাণ নিলেন খুনি স্বামী! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিশ্বাসঘাতকতা ও নৃশংসতা
বিহারের ছাপরায় দীর্ঘ ১৩ বছরের প্রেমের সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত এক বস্তাবন্দি লাশে রূপ নিল। অভিযুক্ত দীপক কুমার পেশায় একজন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার হওয়া সত্ত্বেও তার দীর্ঘদিনের প্রেমিকা ও সদ্য বিবাহিতা স্ত্রী আরাধ্যাকে নির্মমভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। গত ১৩ মার্চ মন্দিরে গোপনে বিয়ের মাত্র ১৫ দিন পরেই দীপক তার আসল রূপ ধারণ করে। নিজের পরিবারের পছন্দে অন্য মেয়েকে বিয়ে করার পথে আরাধ্যাকে ‘কাঁটা’ মনে করেই সে এই চরম পথ বেছে নেয় বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে।
পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ও প্রতারণা
তদন্তে জানা গেছে, গত ১ এপ্রিল থেকে আরাধ্যাকে হত্যার চেষ্টা করছিল দীপক। প্রথমে রেললাইনে ধাক্কা দিয়ে দুর্ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করলেও তা ব্যর্থ হয়। অবশেষে ১২ এপ্রিল রাতে যখন আরাধ্যা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন, তখন দীপক তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর নিথর দেহটি বস্তাবন্দি করে বাইকে করে ১৫ কিলোমিটার দূরে ফেলে দিয়ে আসে। ঘাতক স্বামী এতটাই পাষণ্ড ছিল যে, স্ত্রীকে হত্যার পর সে স্বাভাবিকভাবে নিজের দ্বিতীয় বিয়ের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে।
বিয়ের দিনেই পর্দাফাঁস
গত ২১ এপ্রিল যখন দীপকের দ্বিতীয় বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল, ঠিক তখনই আরাধ্যার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। মেয়ের সন্ধান না পেয়ে তার বাবা পুলিশের দ্বারস্থ হন। পুলিশি জেরার মুখে প্রথমে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিলেও কারিগরি প্রমাণের ভিত্তিতে দীপক তার অপরাধ কবুল করতে বাধ্য হয়। ১৩ বছরের আবেগ ও সংগ্রামের সম্পর্ক এভাবে একটি ঘৃণ্য অপরাধের মাধ্যমে শেষ হওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে অভিযুক্ত দীপক শ্রীঘরে এবং পুলিশ পুরো ঘটনার অধিকতর তদন্ত করছে।
এক ঝলকে
- ১৩ বছরের দীর্ঘ প্রেমের পর গত ১৩ মার্চ মন্দিরে গোপনে বিয়ে করে দীপক ও আরাধ্যা।
- অন্যত্র বিয়ের পিঁড়িতে বসতে বাধা হয়ে দাঁড়ানোয় ১২ এপ্রিল স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে দীপক।
- হত্যার পর লাশ বস্তাবন্দি করে ১৫ কিলোমিটার দূরে নদীর সীমান্তে ফেলে দেওয়া হয়।
- নিজে দ্বিতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসার ঠিক আগমুহূর্তে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে ঘাতক স্বামী।
