ভিআইপি কালচারে কোপ! মোদীর আহ্বানে ৫০% কমছে মুখ্যমন্ত্রীদের কনভয়, খরচ কমাতে বড় পদক্ষেপ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিশ্বজুড়ে অস্থির পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সাশ্রয় এবং সরকারি ব্যয় কমাতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে ভারতের একাধিক রাজ্য। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন রাজ্যের প্রশাসন ভিআইপি নিরাপত্তা ও প্রোটোকলে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। এই উদ্যোগের ফলে মুখ্যমন্ত্রীদের গাড়ি বহর বা কনভয় থেকে শুরু করে মন্ত্রীদের যাতায়াত ব্যবস্থায় কৃচ্ছ্রসাধনের নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
ভিআইপি কনভয়ে নিয়ন্ত্রণ ও বিকল্প যাতায়াত
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় উত্তরপ্রদেশ সরকার মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের গাড়ির সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছে। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ব্যক্তিগতভাবে ভিডিও কনফারেন্সিং এবং ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ সংস্কৃতিতে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তাদের অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ ও সোনা কেনা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। একইভাবে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব তার কনভয়ে গাড়ির সংখ্যা ১৩টি থেকে কমিয়ে ৮টিতে নামিয়ে এনেছেন। মধ্যপ্রদেশের জ্বালানি মন্ত্রী এবং উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের অনেককেই ই-স্কুটার ও সাইকেলে চড়ে কর্মস্থলে যেতে দেখা গেছে।
সাশ্রয়ী নীতিতে বিভিন্ন রাজ্যের কর্মপরিকল্পনা
গুজরাটে মন্ত্রীরা পুলিশের পাইলট কার বা নিরাপত্তা বেষ্টনী ছাড়াই যাতায়াতের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা জ্বালানি ও সরকারি কোষাগারের ওপর চাপ কমাবে। এমনকি রাজ্যপাল পর্যায়ের ব্যক্তিরাও আকাশপথের বদলে ট্রেন বা পাবলিক বাসে ভ্রমণের ঘোষণা দিয়েছেন। দিল্লিতেও মন্ত্রিসভার সদস্য এবং বিধায়কদের যাতায়াতে মেট্রো ও ই-রিকশা ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। পশ্চিমবঙ্গেও মুখ্যমন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ সচিবদের বৈঠকে অপ্রয়োজনীয় সরকারি খরচ কমানো এবং জ্বালানি সাশ্রয়ে কঠোর নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
সংকট মোকাবিলা ও দূরপাল্লার প্রভাব
মূলত বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতার কারণে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও দাম নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা সামাল দিতেই এই কৃচ্ছ্রসাধন। সরকার মনে করছে, শীর্ষ পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিরা সাশ্রয়ী জীবনযাপন করলে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়বে। এই পদক্ষেপের ফলে একদিকে যেমন বিপুল পরিমাণ জ্বালানি সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে সরকারি তহবিলের ওপর চাপ কমবে। জনস্বার্থে নেওয়া এই নীতি দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশ দূষণ রোধ এবং বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের পথ প্রশস্ত করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
