ভেঙে গেল ট্রাম্পের দীর্ঘ বৈঠক, ওয়াশিংটন-তেহরান সংঘাত কি এবার চূড়ান্ত যুদ্ধের পথে! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ইরান সংকট নিরসনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দীর্ঘ বৈঠক সত্ত্বেও কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। হোয়াইট হাউসে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এক উচ্চ-পর্যায়ের জরুরি বৈঠকের পর এই রফাসূত্র অধরাই থেকে গেল। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা ‘এপি’র বরাত দিয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দু’পক্ষের অনড় অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনার পারদ আরও চড়েছে। ফলে কূটনৈতিক মহলে এখন বড় প্রশ্ন, তবে কি তেহরানের ওপর চূড়ান্ত হামলার প্রস্তুতি শুরু করছে ওয়াশিংটন?
অনড় ট্রাম্পের শর্ত এবং তেহরানের প্রত্যাখ্যান
হোয়াইট হাউসের বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সহযোগীদের সঙ্গে ইরান যুদ্ধের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। যুদ্ধবিরতির জন্য ওয়াশিংটন মূলত তিনটি প্রধান শর্ত জুড়ে দিয়েছে। প্রথমত, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে কোনো বাধা ছাড়াই আন্তর্জাতিক নৌযান ও অবাধ বাণিজ্য জাহাজ চলাচল করতে দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, সমুদ্রের নিচে বিছিয়ে রাখা সমস্ত মাইন ইরানকে ধ্বংস করতে হবে। এবং তৃতীয়ত, তেহরানের কাছে সঞ্চিত থাকা বিপুল পরিমাণ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ওয়াশিংটনের হাতে হস্তান্তর করতে হবে, যাতে তারা কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে।
তবে আমেরিকার এই কঠিন শর্তগুলো মানতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছে তেহরান। নিজেদের সার্বভৌমত্ব এবং পরমাণু কর্মসূচির সুরক্ষায় ইরান পিছু হটতে নারাজ। আর দুই দেশের এই বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণেই দীর্ঘ বৈঠকেও কোনো রফাসূত্র মেলেনি।
যুদ্ধের মেঘ ও সম্ভাব্য বৈশ্বিক প্রভাব
বৈঠক শেষে ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশাল’-এ এক বার্তায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন, পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করার শর্ত না মানলে তেহরানে ফের সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে। একই সুর শোনা গেছে মার্কিন যুদ্ধ মন্ত্রকের সচিব পিট হেগসেথের গলাতেও। তিনি সাফ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, চুক্তিতে আসতে ব্যর্থ হলে আমেরিকা সামরিক শক্তির ব্যবহারে প্রস্তুত রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংঘাত যদি শেষ পর্যন্ত যুদ্ধের রূপ নেয়, তবে তার প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী। হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ বা যুদ্ধকবলিত হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হবে, যার ফলে এক ধাক্কায় তেলের দাম আকাশচুম্বী হতে পারে। এর সমান্তরালে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এক দীর্ঘমেয়াদি ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা সামগ্রিক বিশ্ব অর্থনীতিকে এক বড়সড় মন্দার মুখে ঠেলে দিতে পারে।
