ভোটের দিন গুন্ডামি করলেই হাজতবাস! অলি-গলিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বাইক টহল আর ড্রোনের নজরদারি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
প্রথম দফার বিক্ষিপ্ত অশান্তি থেকে শিক্ষা নিয়ে দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে নিরাপত্তার বজ্র আঁটুনি তৈরি করেছে নির্বাচন কমিশন। এবার কেবল ভোটকেন্দ্র বা প্রধান সড়ক নয়, দুষ্কৃতীদের ডেরা হিসেবে পরিচিত অলি-গলিগুলোতেও চলবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিশেষ নজরদারি। ভোটারদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এবং বুথ জ্যাম রুখতে প্রতিটি পাড়ায় পাড়ায় পৌঁছে যাবে বাহিনীর জওয়ানরা। মূলত নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই কমিশনের এই নজিরবিহীন পদক্ষেপ।
প্রযুক্তি ও বাহিনীর সমন্বয়ে ত্রিস্তরীয় সুরক্ষা
নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এবার ভোটগ্রহণের নিরাপত্তায় ‘থ্রি-লেয়ার’ বা ত্রিস্তরীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর করা হচ্ছে। বুথের ভেতরে কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং লাইনে রাজ্য পুলিশ থাকলেও, আসল চমক থাকছে পাড়ার ভেতরে। বড় গাড়ি ঢুকতে পারে না এমন সরু গলিগুলোতে নজরদারির জন্য নামানো হচ্ছে বিশেষ ‘বাইক বাহিনী’। কুইক রেসপন্স টিমের (QRT) জওয়ানরা বাইকে চড়ে সার্বক্ষণিক টহল দেবেন, যাতে কোথাও কোনো জমায়েত বা ভোটারদের ভয় দেখানোর চেষ্টা হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
সিসিটিভি ও ড্রোনের কড়া নজরদারি
প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করে প্রতিটি বুথের ১০০ শতাংশ লাইভ ওয়েবকাস্টিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে আকাশপথে নজরদারি চালাতে ব্যবহার করা হচ্ছে ড্রোন। এছাড়াও রাস্তার মোড়ে মোড়ে অস্থায়ী সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়ে সরাসরি দিল্লি থেকে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। মোবাইল ভ্যান এবং জিপিএস ট্র্যাকিং সিস্টেমের মাধ্যমে প্রতিটি নিরাপত্তা কর্মীর গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে, যা যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সহায়ক হবে।
এই কঠোর ব্যবস্থার প্রভাবে একদিকে যেমন রাজনৈতিক সংঘর্ষের আশঙ্কা কমবে, অন্যদিকে সাধারণ ভোটাররা নির্ভয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছাতে পারবেন। কমিশনের এই কড়া বার্তায় স্পষ্ট যে, দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে পেশিশক্তির ব্যবহার রুখতে তারা বিন্দুমাত্র আপস করতে নারাজ।
এক ঝলকে
- পাড়ার অলি-গলিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিশেষ বাইক টহল ও কুইক রেসপন্স টিমের নজরদারি।
- প্রতিটি বুথে ১০০ শতাংশ লাইভ ওয়েবকাস্টিং এবং স্পর্শকাতর এলাকায় ড্রোনের ব্যবহার।
- ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বুথ ও পাড়ায় ত্রিস্তরীয় সুরক্ষা বলয় তৈরি।
- অশান্তি রুখতে পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের কমিশনের কঠোর নির্দেশ।
