ভোটের পর ফের উত্তপ্ত বাংলা, হুগলিতে তৃণমূল নেতাকে নৃশংস খুনের অভিযোগ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গে সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে মাথাচারা দিয়ে উঠেছে রাজনৈতিক সহিংসতা। এবার হুগলি জেলার গোঘাটে এক তৃণমূল নেতার রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। নকুন্ডা পঞ্চায়েতের কোটা গ্রামে স্থানীয় একটি দলীয় কার্যালয়ের পেছনের নর্দমা থেকে সহদেব বাগ (৪০) নামে ওই ব্যক্তির দেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের মুখে ও নাকে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানা গেছে।
সহদেব বাগ নকুন্ডা পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্যা চীনা বাগের স্বামী। পরিবারের দাবি, শনিবার রাত থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। রবিবার সকালে দলীয় কার্যালয়ের পাশে তাকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনাস্থল থেকে একটি মুগুর উদ্ধার করেছে পুলিশ, যা দিয়ে তাকে পিটিয়ে মারা হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুমান করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও পরিবারের অভিযোগ
নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে সরাসরি বিজেপির দিকে অভিযোগের আঙুল তোলা হয়েছে। নিহতের স্ত্রী জানান, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই তার স্বামীকে ক্রমাগত প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। তৃণমূলের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। তবে বিজেপির পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং ঘটনার নেপথ্যে ব্যক্তিগত শত্রুতা নাকি রাজনৈতিক বিবাদ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে।
খেজুরিতে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি ও তৃণমূলের তোপ
অন্যদিকে, পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরি ব্লকের হিজলি শরিফ গ্রামে বড়সড় অগ্নিকাণ্ড ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার রাতে প্রায় ৬০টিরও বেশি দোকানে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনার জন্য বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের দায়ী করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে তিনি দাবি করেন, হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের জীবিকা ধ্বংস করা হয়েছে। এই ঘটনাকে তিনি ‘বর্বরতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ভোট-পরবর্তী এই লাগাতার অশান্তি ও প্রাণহানির ঘটনায় রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এলাকায় পুলিশি টহল বাড়ানো হলেও গ্রামজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এই ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে আরও বড় রাজনৈতিক সংঘাতের পথ প্রশস্ত করতে পারে।
