ভোটের বিপর্যয়ে ভাঙন তৃণমূলে, এবার ইস্তফা দিলেন পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা সভাধিপতি উত্তম বারিক – এবেলা

ভোটের বিপর্যয়ে ভাঙন তৃণমূলে, এবার ইস্তফা দিলেন পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা সভাধিপতি উত্তম বারিক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই তীব্র রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সংকটের মুখে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের অন্দরে তীব্র ডামাডোল এবং একের পর এক নেতার গ্রেফতারির মাঝেই এবার বড়সড় ধাক্কা এল পূর্ব মেদিনীপুরে। চণ্ডীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে নিজের পরাজয় এবং দলের ভরাডুবির নৈতিক দায় স্বীকার করে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি পদ থেকে ইস্তফা দিলেন উত্তম বারিক। শুক্রবার তাঁর এই পদত্যাগের পর জেলার প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে।

পরাজয়ের পর নীরবতা ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে চণ্ডীপুর কেন্দ্র থেকে দলের প্রার্থী হয়েও হারের মুখ দেখতে হয় উত্তম বারিককে। গত ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই কার্যত নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলেন এই দাপুটে নেতা। জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কাজকর্ম থেকেও সম্পূর্ণ দূরত্ব বজায় রাখছিলেন। অবশেষে শুক্রবার পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির পর এবং এই ফলাফলের পর তাঁর আর সভাধিপতির পদে থাকার কোনো নৈতিক মানে হয় না। ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের শীর্ষ পদে বসা উত্তম বারিকের এই সিদ্ধান্ত তৃণমূলের সাংগঠনিক দুর্বলতাকেই প্রকাশ্যে এনেছে।

প্রশাসনিক অনিশ্চয়তা ও সম্ভাব্য প্রভাব

উত্তম বারিকের ইস্তফার ফলে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। নির্বাচিত বোর্ডের প্রধান পদটি শূন্য হয়ে যাওয়ায় পরিষদের স্বাভাবিক উন্নয়নমূলক ও প্রশাসনিক কাজকর্ম থমকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সেখানে অস্থায়ীভাবে কোনো প্রশাসক নিয়োগ করা হতে পারে বলে প্রশাসনিক মহলে জোর গুঞ্জন চলছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পূর্ব মেদিনীপুরের মতো হাইপ্রোফাইল জেলায় জেলা পরিষদের শীর্ষ পদের এই শূন্যতা সামগ্রিক গ্রামীণ উন্নয়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একইসঙ্গে গত কয়েক সপ্তাহে জেলার বিভিন্ন পঞ্চায়েত সমিতি ও গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে যেভাবে একের পর এক জনপ্রতিনিধি পদত্যাগ করছেন, তা তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় ধরনের ফাটলের ইঙ্গিত দিচ্ছে। জেলা পরিষদের এই শীর্ষ পদের পরিবর্তন আগামী দিনে জেলার রাজনীতিতে নতুন কোনো সমীকরণের জন্ম দেয় কিনা, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *