ভোটের বিপর্যয় কাটিয়ে এবার রাজপথে মমতা, আগামী মঙ্গলবারেই ধর্মতলায় মেগা অবস্থান বিক্ষোভের ডাক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
নির্বাচন মিটলেও পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পারদ ক্রমশ চড়ছে। ভোটের ফলাফলে বিপর্যয়ের পর এবার সরাসরি রাজপথের আন্দোলনে নামতে চলেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট পরবর্তী হিংসা, কারচুপি এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অপব্যবহারের প্রতিবাদে আগামী ২ জুন, মঙ্গলবার কলকাতার ধর্মতলায় একদিনের অবস্থান বিক্ষোভ কর্মসূচি গ্রহণ করতে চলেছেন তিনি। ইতিমধ্যেই এই কর্মসূচির জন্য রানি রাসমণি রোডে পুলিশের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। অনুমতি মিললেই দীর্ঘ বিরতির পর ফের চেনা মেজাজে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করতে দেখা যাবে তৃণমূল সুপ্রিমোকে।
তৃণমূলের অন্দরে মুষলপর্ব ও নেত্রীর সক্রিয়তা
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে মাত্র ৮০টি আসনে জয়লাভ করেছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। এই অভাবনীয় হারের পর থেকেই জোড়াফুল শিবিরের অন্দরে চরম অসন্তোষ ও ভাঙন দেখা দিয়েছে। দলের একাংশ যেমন নেতৃত্বের ভুলত্রুটি নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন, তেমনই অনেকেই আবার দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন। তবে দলের এই কঠিন পরিস্থিতিতে কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে নিজেই হাল ধরেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কালীঘাটের বাসভবনে লাগাতার দলীয় বৈঠক করে জয়ী প্রার্থীদের জনসংযোগ বাড়ানোর ও পথে নামার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এবার কর্মীদের উদ্বুদ্ধ করতে নিজেই প্রথম সারিতে এসে আন্দোলনের ডাক দিলেন নেত্রী।
আন্দোলনের কারণ ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব
তৃণমূল সূত্রের খবর, এবারের নির্বাচনে দলের এই হতশ্রী ফলাফলের পেছনে ‘ভোট লুট’ ও ‘কারচুপি’কে প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, অন্তত ৫০টি আসনে কারচুপি করে জিতেছে বিজেপি। একই সঙ্গে ভোট পরবর্তী সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল কর্মীদের ওপর হামলা এবং কেন্দ্রীয় সংস্থাকে দিয়ে চাপ সৃষ্টির অভিযোগকেও এই আন্দোলনের মূল হাতিয়ার করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান বিক্ষোভের মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একসঙ্গে দুটি লক্ষ্যপূরণ করতে চাইছেন। প্রথমত, দলের অন্দরে তৈরি হওয়া ক্ষোভ ও হতাশা দূর করে কর্মীদের পুনরায় চাঙ্গা করা। দ্বিতীয়ত, ভোট লুটের অভিযোগকে সামনে এনে হারের দায় দলের রণকৌশল থেকে সরিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর চাপানো। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও আক্রান্ত কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে শনিবার থেকেই মাঠে নামছেন। ফলে আগামী সপ্তাহ থেকে বাংলায় শাসকদলের রাজনৈতিক তৎপরতা যে বহুগুণ বাড়তে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।
