ভোটের ময়দানে পুলিশি মেজাজে বড় বদল! নজিরবিহীন সক্রিয়তায় চাপে শাসক শিবির – এবেলা

ভোটের ময়দানে পুলিশি মেজাজে বড় বদল! নজিরবিহীন সক্রিয়তায় চাপে শাসক শিবির – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভুমিকা নিয়ে রাজ্যজুড়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতির পাশাপাশি এবার রাজ্য পুলিশের সক্রিয়তা ও কঠোর অবস্থান সাধারণ ভোটার থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহলে বিস্ময় তৈরি করেছে। বিশেষ করে তৃণমূল কর্মীদের জমায়েত হঠানো এবং প্রভাবশালী নেতাদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ‘মারমুখী’ মেজাজ ছিল চোখে পড়ার মতো। কালীঘাট থেকে বর্ধমান—সবত্রই পুলিশের শরীরী ভাষায় এক অন্যরকম দৃঢ়তা লক্ষ করা গিয়েছে।

পুলিশের সক্রিয়তায় রাজনৈতিক সমীকরণ

নির্বাচন কমিশনের কড়া নজরদারিতে এবার পুলিশ প্রশাসনকে অনেক বেশি নিরপেক্ষ ও কঠোর হতে দেখা গিয়েছে। তৃণমূলের কাউন্সিলর বা ঘনিষ্ঠ নেতাদের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার চেষ্টাকে রুখে দিয়েছে পুলিশ। কোথাও জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে, আবার কোথাও অবাধ্য রাজনৈতিক কর্মীদের বিরুদ্ধে সরাসরি আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই পরিবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, প্রশাসনের ওপর থেকে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের শিথিলতা পুলিশকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছে।

প্রশাসনের জয় ও সম্ভাব্য প্রভাব

বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ পুলিশের এই ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে জানিয়েছেন যে, পুলিশ এবার নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ খুঁজছিল। তার দাবি, প্রশাসনের সদিচ্ছা থাকলে যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতেও শান্তিপূর্ণ ভোট করানো সম্ভব। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কঠোর সিদ্ধান্ত এবং পুলিশের পেশাদারিত্বের কারণে বহু সংবেদনশীল এলাকাতেও বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ভোট সম্পন্ন হয়েছে। এই নিরপেক্ষ অবস্থান আগামী দিনের প্রশাসনিক সংস্কার এবং জনমানসে পুলিশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

এক ঝলকে

  • কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি রাজ্য পুলিশের নজিরবিহীন সক্রিয়তা ও কঠোর মেজাজ লক্ষ করা গেছে।
  • শাসক দলের একাধিক প্রভাবশালী নেতা ও কাউন্সিলরকে জমায়েত করতে বাধা দিয়ে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
  • বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ পুলিশের বদলে যাওয়া ‘বডি ল্যাঙ্গুয়েজ’ এবং সাহসের প্রশংসা করেছেন।
  • প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কারণে রাজ্যে একটি শান্তিপূর্ণ ও ঐতিহাসিক নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *