ভোটের মাঠে মস্তানদের দাদাগিরি রুখতে এবার ‘কড়া ওষুধের’ হুঁশিয়ারি কমিশনের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বাংলার দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নজিরবিহীন কঠোর অবস্থানের কথা জানাল নির্বাচন কমিশন। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে সরাসরি ‘মস্তান’ ও ‘গুণ্ডাবাহিনী’র বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন কমিশনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। স্পষ্ট জানানো হয়েছে, যারা ভোটের মাঠে অশান্তি পাকানোর বা পেশিশক্তি প্রদর্শনের ছক কষছে, তাদের দমানোর জন্য প্রশাসনের কাছে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা বা ‘সব রোগের ওষুধ’ মজুত রয়েছে।
প্রশাসনের সাঁড়াশি অভিযান
কমিশনের এই কড়া বার্তার প্রতিফলন ইতিমধ্য়েই মাঠপর্যায়ে দেখা যাচ্ছে। রাজ্যজুড়ে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত দেড় হাজারেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করার পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক জামিন অযোগ্য পরোয়ানা কার্যকর করেছে পুলিশ। মূলত বুথ দখল কিংবা ভোটারদের ভয় দেখানোর সংস্কৃতি বন্ধ করতেই প্রশাসন এই আক্রমণাত্মক কৌশল গ্রহণ করেছে।
নিরাপত্তার বিশেষ প্রস্তুতি
২৯ এপ্রিলের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে রাতভর রুট মার্চ ও নাকা চেকিং জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে কুইক রেসপন্স টিম (QRT), যা খবর পাওয়া মাত্রই কয়েক মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছাবে। এছাড়া প্রতিটি বুথে ওয়েবকাস্টিং এবং ড্রোনের মাধ্যমে সরাসরি নজরদারি চালিয়ে রিগিং বা গোলমালের চেষ্টা অঙ্কুরেই বিনাশ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
কমিশনের এই আগ্রাসী মনোভাব সাধারণ ভোটারদের মনে আস্থা ফেরাতে সাহায্য করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই হুঁশিয়ারির ফলে ভোটের দিন রাজনৈতিক হিংসা বা প্রভাব খাটানোর প্রবণতা অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। লোহার হাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন কমিশনের মূল লক্ষ্য।
এক ঝলকে
- ভোটের মাঠে অশান্তি রুখতে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে ‘সব রোগের ওষুধ’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিল নির্বাচন কমিশন।
- ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে দেড় হাজারেরও বেশি গ্রেপ্তার এবং জামিন অযোগ্য পরোয়ানা কার্যকর করা হয়েছে।
- নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ড্রোন নজরদারি, কুইক রেসপন্স টিম এবং নিশ্ছিদ্র ওয়েবকাস্টিংয়ের ব্যবস্থা থাকছে।
- দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে পেশিশক্তির বদলে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখাই প্রশাসনের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
