ভোটের মুখে বিস্ফোরক স্টিং অপারেশন! হুমায়ুন-বিজেপি আঁতাঁত নিয়ে মুখ খুললেন অমিত শাহ

লোকসভা নির্বাচনের আবহে বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক, হুমায়ুন কবীরের ভিডিও ঘিরে তোলপাড় রাজ্য
লোকসভা নির্বাচনের ঠিক প্রাক্কালে বঙ্গ রাজনীতির অলিন্দে আছড়ে পড়ল এক ‘পলিটিক্যাল সুনামি’। তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের একটি কথিত ভাইরাল ভিডিও বা স্টিং অপারেশনকে কেন্দ্র করে এখন সরগরম রাজ্য-রাজনীতি। এই উত্তাপ কেবল গঙ্গার পাড়েই সীমাবদ্ধ থাকেনি, তা পৌঁছে গেছে খোদ দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দফতর পর্যন্ত। দক্ষিণ দিনাজপুরের নির্বাচনী জনসভা থেকে এই ইস্যুতেই তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করেছেন অমিত শাহ।
কী রয়েছে সেই বিতর্কিত ভিডিওতে?
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গেছে। যদিও এই ভিডিওর সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করেনি সংবাদমাধ্যম। অভিযোগ উঠেছে, ওই ভিডিওতে বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে এক রহস্যময় ব্যক্তির কথোপকথন উঠে এসেছে। বিরোধীদের দাবি, সেখানে বিজেপি নেতাদের সঙ্গে তৃণমূল বিধায়কের গোপন যোগাযোগের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, যা শাসকদলের অন্দরের সমীকরণ নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতি দুভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে:
- বিরোধীদের অভিযোগ: বিজেপি এবং অন্যান্য বিরোধী দলগুলোর দাবি, এটি কেবল একটি ভিডিও নয়, বরং শাসকদলের গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র এবং তলে তলে সমঝোতার অকাট্য প্রমাণ।
- তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া: শাসকদল এই অভিযোগ সম্পূর্ণ খারিজ করেছে। তৃণমূলের দাবি, ভোটের মুখে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে বিরোধী শিবির পরিকল্পিতভাবে এই অপপ্রচার চালাচ্ছে।
অমিত শাহর ‘এজেন্ট’ কটাক্ষ
নির্বাচনী প্রচারে বাংলায় এসে এই বিতর্কিত ইস্যুতে সরাসরি তৃণমূলকে আক্রমণ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। দক্ষিণ দিনাজপুরের সভায় দাঁড়িয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “যাঁকে নিয়ে এত বিতর্ক, সেই হুমায়ুন আসলে দিদিরই এজেন্ট।” স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বিজেপি এই ইস্যুটিকে হাতিয়ার করে তৃণমূলের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে মরিয়া। তিনি আরও বলেন, “দিদির এজেন্ট হুমায়ুন! বাংলার মানুষ সব দেখছেন এবং এর জবাব ইভিএমে দেবেন।”
ভোটের আগে টানটান উত্তেজনা
এই স্টিং অপারেশন এবং এরপর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সরাসরি আক্রমণ— দুইয়ে মিলে দক্ষিণ দিনাজপুরসহ গোটা বাংলার উত্তাপ এখন তুঙ্গে। শাসকদল একদিকে যখন নিজেদের ঘর সামলাতে ব্যস্ত, অন্যদিকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, এই ঘটনা সাধারণ ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারে। প্রশ্ন উঠছে, এই কথিত স্টিং অপারেশন কি আদৌ ভোটের ফলে কোনো পরিবর্তন আনবে, নাকি এটি নিছকই বিরোধী শিবিরের নির্বাচনী কৌশল?
যা-ই হোক, নির্বাচনের ঠিক আগে হুমায়ুন কবীরের এই রহস্যময় ভিডিও এখন রাজ্য রাজনীতির সবচেয়ে চর্চিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এক ঝলকে
- ঘটনা: তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের একটি কথিত স্টিং অপারেশন ভিডিও ভাইরাল।
- অভিযোগ: বিরোধী শিবিরের দাবি, বিরোধী দলের নেতাদের সঙ্গে তৃণমূল বিধায়কের গোপন যোগাযোগ রয়েছে।
- পাল্টা দাবি: শাসকদলের বক্তব্য, এটি ভিত্তিহীন এবং পরিকল্পিত অপপ্রচার।
- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া: দক্ষিণ দিনাজপুরের সভা থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই ইস্যুতে তৃণমূলকে আক্রমণ করে বিধায়ককে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ করেছেন।
- রাজনৈতিক প্রভাব: ভোটের ঠিক আগে এই বিতর্কিত ইস্যুতে জেলা তথা রাজ্য রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
