“ভোট কমলে কমুক, স্কুলে মোবাইল ব্যান!” শিক্ষক দিবসে শুভেন্দুর মাস্টারস্ট্রোক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
শিক্ষক দিবস উপলক্ষে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন, স্বচ্ছ নিয়োগ এবং পরিকাঠামোগত সংস্কারে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার নিউ টাউনের বিশেষ একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তিনি জানান, শিক্ষার গুণমান ফেরাতে সরকার কোনো রাজনৈতিক লাভ-ক্ষতির তোয়াক্কা করবে না।
স্কুলে মোবাইল ব্যবহারে কড়াকড়ি ও পাঠ্যক্রমে বদল
শিক্ষাঙ্গনে পঠনপাঠনের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত স্কুলে মোবাইল ব্যবহারে কঠোর নিয়ন্ত্রণের সওয়াল করেন মুখ্যমন্ত্রী। গুজরাটের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “আমার ভোট হয়তো কমতে পারে, তাও বলব স্কুলে মোবাইল ফোন নিয়ন্ত্রণ করতেই হবে।” পাশাপাশি, নতুন পাঠ্যক্রমে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও স্বামী প্রণবানন্দের অবদান অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত জানান তিনি।
‘সিএম শ্রী’ স্কুল ও ক্রীড়া কেন্দ্র
কেন্দ্রের ‘পিএম শ্রী’ প্রকল্পের ধাঁচে রাজ্যে চালু হতে চলেছে ‘সিএম শ্রী’ স্কুল। প্রতিটি জেলায় দুটি করে আধুনিক মডেল স্কুল গড়ে তোলা হবে, যেখানে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে মেধার ভিত্তিতে ভর্তি নেওয়া হবে। এতে থাকবে স্মার্ট বোর্ডসহ যাবতীয় সর্বাধুনিক সুবিধা। এর পাশাপাশি উত্তর ও পশ্চিমবঙ্গে বড় মাপের দুটি ক্রীড়া কেন্দ্র তৈরির আশ্বাস দেওয়া হয়।
স্বচ্ছ এসএসসি নিয়োগ ও উচ্চশিক্ষার নতুন নীতি
নিয়োগ দুর্নীতি রোধে কড়া বার্তা দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী জানান, সুপ্রিম কোর্টের নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই এসএসসি (SSC) নিয়োগ সম্পন্ন করা হবে। স্বচ্ছতা আনতে ওরাল বা মৌখিক পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে লিখিত পরীক্ষার ওপর বেশি জোর দেওয়ার কথা বলেন তিনি। এছাড়া উচ্চশিক্ষায় মেধাবীদের জন্য ‘স্বামী বিবেকানন্দ মেরি স্কিম’ এবং কলেজ শিক্ষকদের জন্য নতুন বদলি নীতি বা ‘ট্রান্সফার ম্যানেজমেন্ট পলিসি’ চালুর ঘোষণা দেন।
জাতীয়তাবাদ ও পূর্বতন সরকারের সমালোচনা
জাতীয় শিক্ষানীতির (NEP) আলোকে পরিকাঠামো সাজানোর কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জাতীয়তাবাদ ও ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে শিক্ষাবিদদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
বিগত প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করে তিনি জানান, রাজ্যের প্রায় ১৯ হাজার স্কুলে এখনও ন্যূনতম পরিকাঠামো নেই। কলকাতার ঐতিহাসিক মিত্র ইনস্টিটিউশনে সাপের কামড়ে ছাত্র আহতের ঘটনা টেনে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, উৎসবে-মেলায় অনুদানের অভাব না হলেও গত তিন বছর স্কুলগুলি কার্বোলিক অ্যাসিড কেনার গ্রান্ট পর্যন্ত পায়নি।
