ভোট না দিলে কি বাতিল হবে নাগরিকত্ব! ভাইরাল বার্তার নেপথ্যে আসল সত্য কী? – এবেলা

ভোট না দিলে কি বাতিল হবে নাগরিকত্ব! ভাইরাল বার্তার নেপথ্যে আসল সত্য কী? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ঘিরে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ভাইরাল হওয়া ওই বার্তায় দাবি করা হচ্ছে, ভোটের দিন বুথে না গেলে নাগরিকত্ব বাতিল হতে পারে এবং ভোটার তালিকা থেকেও নাম কেটে দেওয়া হবে। তবে ভারতীয় সংবিধান এবং নির্বাচন কমিশনের নিয়ম খতিয়ে দেখলে এই দাবির কোনো ভিত্তি খুঁজে পাওয়া যায় না। মূলত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াতেই এই ধরনের গুজব রটানো হচ্ছে।

সংবিধান ও নাগরিকত্বের অধিকার

ভারতীয় সংবিধানের ৫ থেকে ১১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিকত্ব নির্ধারণ করা হয়। দেশের কোনো নাগরিক যদি নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ না করেন, তবে তার জন্য নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার কোনো আইনি বিধান সংবিধানে নেই। নাগরিকত্ব বাতিলের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ আলাদা এবং সেটি সাধারণত রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ বা অন্য দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণের মতো গুরুতর বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল। ভোট প্রদান একটি নৈতিক দায়িত্ব ও সাংবিধানিক অধিকার হলেও এটি বাধ্যতামূলক কোনো আইন নয়।

ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটার নিয়ম

নির্বাচন কমিশন নিয়মিত ভোটার তালিকা সংশোধন বা রিভিশন করে থাকে, তবে তা ভোট না দেওয়ার কারণে নয়। কোনো ব্যক্তি মারা গেলে, স্থায়ীভাবে ঠিকানা পরিবর্তন করলে অথবা তালিকায় নাম ডুপ্লিকেট থাকলে তবেই নিয়ম মেনে নাম বাদ দেওয়া হয়। অনেক সময় প্রশাসনিক ত্রুটির কারণে তালিকা থেকে নাম বাদ যেতে পারে, যাকে কেন্দ্র করে স্বার্থান্বেষী মহল ‘ভোট না দিলে নাম কাটা যাবে’ বলে গুজব ছড়াচ্ছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া প্রতিটি নাগরিকের কর্তব্য হলেও ভোট না দেওয়ার কারণে কোনো আইনি শাস্তি বা তালিকাচ্যুতির ভয় নেই।

এক ঝলকে

  • ভোট না দেওয়ার সঙ্গে নাগরিকত্ব বাতিলের কোনো সাংবিধানিক বা আইনি সম্পর্ক নেই।
  • ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার প্রধান কারণ মৃত্যু বা স্থায়ীভাবে এলাকা পরিবর্তন, ভোট না দেওয়া নয়।
  • ভারতে ভোট প্রদান একটি অধিকার ও গণতান্ত্রিক কর্তব্য, তবে এটি আইনিভাবে বাধ্যতামূলক নয়।
  • বিভ্রান্তিকর ভাইরাল মেসেজটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *