ভোট মিটতেই ফের উত্তপ্ত বাংলা, কড়া হাতে দমনের নির্দেশ মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের

সোমবার নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর চব্বিশ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই আবারও সেই চিরচেনা হিংসার আবহে ফিরেছে পশ্চিমবঙ্গ। রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে ভাঙচুর, মারপিট এবং প্রাণহানির খবর আসায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। ভোট-পরবর্তী এই রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেফতারের জন্য প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।
অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারের নির্দেশ
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার অবনতি রুখতে মঙ্গলবার সকালেই কড়া অবস্থান নিয়েছে কমিশন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার স্পষ্ট জানিয়েছেন, হিংসার ঘটনায় কোনো ধরনের শিথিলতা সহ্য করা হবে না। রাজনৈতিক রং না দেখে দোষীদের দ্রুত খুঁজে বের করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালা, পুলিশ মহানির্দেশক (ডিজি) এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি বিশেষ নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জেলার জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপারদেরও শান্তি বজায় রাখতে ব্যক্তিগতভাবে দায়িত্ব নিতে বলা হয়েছে।
অশান্তির আবহে ঝরল রক্ত
মঙ্গলবার সকাল থেকেই ভাঙড়, বারুইপুর, হাওড়া এবং নানুরের মতো সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে তাদের দলীয় কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়েছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বেড়েছে দুই রাজনৈতিক কর্মীর মৃত্যুতে। রাজ্যের এক প্রান্তে তৃণমূল কর্মীর খুনের অভিযোগ উঠেছে এবং অন্য প্রান্তে এক বিজেপি কর্মীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এই ঘটনার জেরে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে বিজেপিকে এই সন্ত্রাসের জন্য দায়ী করা হলেও, বিজেপি নেতৃত্ব সেই অভিযোগ অস্বীকার করে প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত ও ব্যবস্থার আর্জি জানিয়েছে।
প্রশাসনের চ্যালেঞ্জ ও কমিশনের কড়া নজর
নির্বাচন মিটে যাওয়ার পরেও কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্যে মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও কেন এই অশান্তি থামছে না, তা নিয়ে প্রশাসনিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত অভিযুক্তদের ধরতে না পারলে এই হিংসা আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সরাসরি হস্তক্ষেপ করায় এবং পুলিশকে কড়া আইনি পদক্ষেপের বার্তা দেওয়ায় প্রশাসন এখন বাড়তি চাপের মুখে। এখন দেখার বিষয়, কমিশনের এই কড়া নির্দেশের পর রাজ্যের পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী যৌথভাবে কতটা দ্রুত পরিস্থিতি শান্ত করতে সক্ষম হয়।
