ভোট লুটে বামেদের নেই চেনা অভিযোগ! উত্তরপাড়া থেকে উত্তর দমদমে প্রতিরোধে সক্রিয় মিনাক্ষী ও দীপ্সিতা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যের সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোর চেনা ছবি বদলে দিয়ে দ্বিতীয় দফার ভোটে নজর কাড়লেন দুই তরুণ বাম প্রার্থী মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায় ও দীপ্সিতা ধর। পঞ্চায়েত বা পুরসভা ভোটের মতো বুথ দখল কিংবা ব্যাপক ছাপ্পা ভোটের অভিযোগ এবার তাঁদের মুখে শোনা যায়নি। বরং সুপরিকল্পিত কৌশলে বুথ আগলে রেখে ‘শান্তিপূর্ণ’ ভোট করানোর দাবি জানিয়েছেন উত্তরপাড়া ও উত্তর দমদমের এই দুই হেভিওয়েট প্রার্থী। রাজনৈতিক মহলের মতে, বামেদের এই প্রতিরোধ কৌশল এবং সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ শাসক শিবিরের পেশ পেশিশক্তি প্রদর্শনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নির্বাচনী রণকৌশলে ভিন্ন মেজাজ
উত্তরপাড়ার প্রার্থী মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায় এদিন নির্দিষ্ট মানচিত্র তৈরি করে এলাকা ভিত্তিক নজরদারি চালিয়েছেন। বিশেষ করে কোন্নগর, নবগ্রাম এবং কানাইপুরের মতো স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে তিনি দিনের অধিকাংশ সময় ব্যয় করেন, যেখানে অতীতে ‘ভূতের নাচন’ বা কারচুপির অভিযোগ ছিল প্রবল। অন্যদিকে, উত্তর দমদমের প্রার্থী দীপ্সিতা ধর কোনো নির্দিষ্ট গণ্ডিতে নিজেকে সীমাবদ্ধ না রেখে নিমতা থেকে বিরাটি পর্যন্ত সর্বত্র চষে বেড়িয়েছেন। বিক্ষিপ্ত অশান্তির খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দিতে দেখা গেছে তাঁকে।
রাজনৈতিক সৌজন্য ও প্রতিরোধের প্রভাব
ভোট চলাকালীন উত্তরপাড়ায় তৃণমূল প্রার্থী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে মিনাক্ষীর সৌজন্য বিনিময় এক বিরল দৃশ্য তৈরি করে। তবে সৌজন্যের পাশাপাশি সাংগঠনিক শক্তিতেও জোর দিয়েছিল বামেরা। উত্তর দমদমে রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে দীপ্সিতার লড়াই ছিল মূলত হারানো জমি পুনরুদ্ধারের। দুই প্রার্থীরই দাবি, মানুষ এবার নির্ভয়ে নিজের ভোট নিজে দিতে পেরেছেন। এই ইতিবাচক পরিবেশ বাম শিবিরের জন্য অক্সিজেন হিসেবে কাজ করছে, যা আগামী দিনে ভোটের ফলাফলে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- গত দেড় দশকের ভোট লুটের চেনা অভিযোগের বদলে এবার শান্তিপূর্ণ ভোটের দাবি করেছেন মিনাক্ষী ও দীপ্সিতা।
- উত্তরপাড়ার স্পর্শকাতর বুথগুলোতে মানচিত্র ধরে দিনভর কড়া নজরদারি চালিয়েছেন মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায়।
- উত্তর দমদমে রাজ্যের মন্ত্রীর বিরুদ্ধে দিনভর সক্রিয় থেকে বিক্ষিপ্ত অশান্তি রুখে দিয়েছেন দীপ্সিতা ধর।
- দুই কেন্দ্রের ভোটেই বামেদের সাংগঠনিক প্রতিরোধ ও সাধারণ ভোটারদের সক্রিয়তা ছিল নজরকাড়া।
