মণিপুরে জিম্মি হওয়া ৩৮ জনের মধ্যে ৩১ জন মুক্ত, এখনও থমথমে পরিস্থিতি! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মণিপুরের কাংপোকপি ও সেনাপতি জেলায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাতে জিম্মি হওয়া কুকি ও নাগা সম্প্রদায়ের ৩৮ জন নাগরিকের মধ্যে ৩১ জনকে অবশেষে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার তাঁদের নিরাপদে ছেড়ে দেওয়া হয়। কাংপোকপিতে চার্চের তিন ধর্মীয় নেতাকে হত্যা এবং চারজনকে আহত করার পর এই নিরীহ নাগরিকদের অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গিয়ে জিম্মি করেছিল অস্ত্রধারীরা। একই সময়ে নোনি জেলাতেও এক সাধারণ নাগরিককে গুলি করে হত্যা করার ঘটনা ঘটেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কাংসাখুল গ্রামের জিম্মি হওয়া ১২ জন নাগা মহিলাকে মাখান গ্রামে এনে মুক্তি দেওয়া হয়। অন্যদিকে, সেনাপতি জেলা থেকে জিম্মি হওয়া চারজন পুরুষ এবং দশজন কুকি মহিলাকে বৃহস্পতিবার রাতে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ডন বস্কোর দুই সদস্যকেও পৃথক স্থান থেকে মুক্তি দেয় সশস্ত্র গোষ্ঠীটি। মুক্ত হওয়া এক নারী জানান, তাঁদের চোখ ও হাত বেঁধে পাহাড়ের ভেতরের কোনো অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তবে তাঁদের ওপর কোনো শারীরিক নির্যাতন করা হয়নি।
সহিংসতার কারণ ও চিরুনি অভিযান
মণিপুরে দীর্ঘদিনের জাতিগত সংঘাতের রেশ ধরেই এই সাম্প্রতিক অপহরণ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। নোনি জেলার খৌপুম থানার অন্তর্গত জৌজ্যাংটেক ও নুংসাই-২ গ্রামের সীমান্ত এলাকায় গত ১৩ মে অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের নির্বিচার গুলিবর্ষণের পর রাজ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়। ওই গোলাগুলিতে এক নাগরিকের মৃত্যু হয় এবং দুজন গুরুতর আহত হন। এই ঘটনার পর নিরাপত্তা বাহিনী থৌবাল জেলা থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত ‘কাংলেইপাক কমিউনিস্ট পার্টি’ (কেসিপি-তাইবাংবা)-র এক সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করে এবং পুরো এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করে।
তদন্তের মেয়াদ বৃদ্ধি ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব
রাজ্যের উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং শান্তি বজায় রাখার স্বার্থে মণিপুর সরকার নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে লাগাতার আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে, ২০২৩ সালের মে মাসে মণিপুরে শুরু হওয়া ভয়াবহ জাতিগত সহিংসতার কারণ ও তথ্য অনুসন্ধানের জন্য গঠিত কেন্দ্রীয় তদন্ত কমিশনের মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি বলবীর সিং চৌহানের নেতৃত্বাধীন এই তিন সদস্যের প্যানেলকে আগামী ২০ নভেম্বর, ২০২৬ সালের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই জিম্মি ও মুক্তির ঘটনা রাজ্যটির ভঙ্গুর নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে। একদিকে সাধারণ মানুষের মনে তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে নিরাপত্তা বাহিনী ও গোয়েন্দা নজরদারির কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরে সমঝোতার প্রক্রিয়া দ্রুত সফল না হলে এই ক্ষোভ ও অবিশ্বাস মণিপুরের শান্তি প্রক্রিয়াকে দীর্ঘসময়ের জন্য ব্যাহত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
