মদ্যপ ছেলের পৈশাচিক লালসার শিকার মা, শেষ রক্ষা হলো না জন্মদাতার হাতেই! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
উত্তরপ্রদেশের বিজনৌর জেলার শ্যামিওয়ালা গ্রামে এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে যা সামাজিক অবক্ষয় ও পারিবারিক সুরক্ষার চরম সংকটকে সামনে এনেছে। ৫৬ বছর বয়সী এক মা তার ৩২ বছর বয়সী ছেলে অশোককে ধারালো কাঁচি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবং সেই রাতে ছেলের হাতে পুনরায় লাঞ্ছিত হওয়ার পর এই চরম পদক্ষেপ নেন জননী।
রক্তাক্ত প্রতিশোধ ও নীরবতার ইতি
পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে যে, নিহত যুবক অশোক দীর্ঘদিন ধরেই মদ্যপানে আসক্ত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তিনি বারবার নিজের মায়ের ওপর শারীরিক ও যৌন নিপীড়ন চালাতেন। সামাজিক মর্যাদাহানির ভয়ে মা এতদিন এই জঘন্য অপরাধ মুখ বুজে সহ্য করে আসছিলেন। তবে ঘটনার রাতে অশোক আবারও মদ্যপ অবস্থায় আক্রমণাত্মক হয়ে উঠলে সহ্যের বাঁধ ভেঙে যায় এবং আত্মরক্ষার তাগিদে মা তাকে পালটা আঘাত করেন।
আইনি পদক্ষেপ ও পারিপার্শ্বিক প্রভাব
ঘটনার পর অভিযুক্ত মা প্রথমে ডাকাত দলের হামলার মিথ্যা নাটক সাজিয়ে গ্রামবাসীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে পুলিশের কঠোর জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তিনি সত্য স্বীকার করেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সঞ্জীব বাজপেয়ী জানিয়েছেন যে, ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা কাপড় ও খুনে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনাটি গ্রামীণ সমাজে অপরাধ প্রবণতা ও পরিবারের অভ্যন্তরে অঘোষিত নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে।
এক ঝলকে
- নেশাগ্রস্ত ছেলের হাতে বারবার যৌন নিপীড়নের শিকার হতেন অভিযুক্ত মা।
- ৭ আগস্ট রাতে পুনরায় লাঞ্ছিত হওয়ার পর ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ছেলেকে হত্যা করেন তিনি।
- প্রথমে ডাকাতির গল্প সাজালেও পুলিশের জিজ্ঞাসবাদে নিজের অপরাধ স্বীকার করেন।
- পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করেছে এবং অভিযুক্ত বর্তমানে জেল হেফাজতে রয়েছেন।
