মনোনয়ন পেশে মমতার মাস্টারস্ট্রোক, শাহের উপস্থিতিতে শুভেন্দুর চ্যালেঞ্জের পাল্টা কী

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রের রাজনৈতিক লড়াই এবার এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। টানা তিনবারের জয়ী প্রার্থী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগামী ৮ এপ্রিল, বুধবার এই হাই-প্রোফাইল আসনে তাঁর মনোনয়ন পত্র দাখিল করবেন। সকাল সাড়ে ১০টায় কালীঘাটের বাসভবন থেকে বর্ণাঢ্য মিছিল সহকারে আলিপুরের সার্ভে বিল্ডিংয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন নেত্রী।
ভবানীপুরে এবারের লড়াই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ সপ্তাহখানেক আগেই এই কেন্দ্রে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বিশেষত শুভেন্দুর মনোনয়ন পর্বে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছিল। হাজরা মোড় থেকে রোড শো করে শুভেন্দুর শক্তি প্রদর্শনের পাল্টা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুধবার কী চমক দেন, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।
তৃণমূল সূত্রের খবর, মমতার এই মনোনয়ন মিছিলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক জোরালো বার্তা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। মিছিলে সমস্ত ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হচ্ছে। মূলত বিজেপির পক্ষ থেকে বাঙালিদের একাংশকে ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে দাগিয়ে দেওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, রাজপথের এই মিছিল থেকেই তার রাজনৈতিক জবাব দিতে পারেন নেত্রী।
নির্বাচন প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই ভোটার তালিকা নিয়ে সরব হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, এসআইআর (SIR)-এর অধীনে ভবানীপুর আসন থেকে প্রায় ৪০ হাজার ভোটারের নাম পরিকল্পিতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে তিনি বারবার নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করেছেন। বুধবার মনোনয়ন পেশের সময় এই বঞ্চনার বিষয়টি পুনরায় রাজনৈতিক হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়নের দিন হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের মুখে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও স্লোগান যুদ্ধ তৈরি হয়েছিল। সেই অশান্তির রেশ মাথায় রেখেই বুধবার মমতার মনোনয়কে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ভবানীপুরের এই মেগা লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত পাল্লা কার ভারী থাকে, তার ইঙ্গিত মিলতে পারে বুধবারের এই বিশাল জনসংযোগ কর্মসূচিতেই।
