‘মব লিঞ্চিংয়ে মৌন কেন?’ মাদ্রাসা তদন্ত নিয়ে মানবাধিকার কমিশনকে নজিরবিহীন ভর্ৎসনা হাইকোর্টের!

‘মব লিঞ্চিংয়ে মৌন কেন?’ মাদ্রাসা তদন্ত নিয়ে মানবাধিকার কমিশনকে নজিরবিহীন ভর্ৎসনা হাইকোর্টের!

উত্তরপ্রদেশের মাদরাসাগুলোতে রাজ্য পুলিশের অর্থনৈতিক অপরাধ শাখা বা ইওডব্লিউ (EOW) দিয়ে তদন্ত করানোর নির্দেশের কড়া সমালোচনা করেছেন এলাহাবাদ হাইকোর্ট। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের (NHRC) কর্মপদ্ধতি নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত জানান, মাদরাসা তদন্তে কমিশনের অতি-তৎপরতা তাঁদের স্তম্ভিত করেছে। বিচারপতি অতুল শ্রীধরণ এবং বিচারপতি বিবেক সরনের ডিভিশন বেঞ্চ এই তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রাথমিকভাবে ‘বেআইনি’ হিসেবে গণ্য করেছেন।

বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ

শুনানি চলাকালীন বিচারপতি অতুল শ্রীধরণ অত্যন্ত কড়া ভাষায় মন্তব্য করেন যে, যখন মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ মব লিঞ্চিং বা গণপিটুনির শিকার হন, তখন মানবাধিকার কমিশন রহস্যজনকভাবে নীরব থাকে। অথচ মাদরাসা তদন্তের ক্ষেত্রে তারা অভাবনীয় কঠোরতা প্রদর্শন করছে। কমিশনের মূল দায়িত্ব পালন না করে একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পেছনে লাগার এই প্রবণতা নিয়ে আদালত প্রশ্ন তোলেন। রাজ্য সরকারের দেওয়া ৫৮৮টি অনুদানপ্রাপ্ত মাদরাসার তদন্তের ওপর আদালত আপাতত স্থগিতাদেশ বজায় রেখেছেন।

বিচারপতিদের মতভেদ ও পরবর্তী পদক্ষেপ

এই মামলার পর্যবেক্ষণে ডিভিশন বেঞ্চের দুই বিচারপতির মধ্যে মতভেদও লক্ষ্য করা গেছে। বিচারপতি অতুল শ্রীধরণ মানবাধিকার কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কড়া পর্যবেক্ষণ দিলেও, বিচারপতি বিবেক সরন সেই মন্তব্যের কিছু অংশের সাথে একমত হননি। মতপার্থক্যের কারণে বিষয়টি বৃহত্তর বেঞ্চে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আদালত ইতিমধ্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে নোটিশ জারি করে তাঁদের আইনজীবীর মাধ্যমে অবস্থান স্পষ্ট করার নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ১১ মে এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

এক ঝলকে

  • মুসলিমদের গণপিটুনি নিয়ে মানবাধিকার কমিশনের নীরবতা এবং মাদরাসা তদন্তে অতি-সক্রিয়তা নিয়ে আদালতের তীব্র কটাক্ষ।
  • ৫৮৮টি অনুদানপ্রাপ্ত মাদরাসায় ইওডব্লিউ (EOW) তদন্তের নির্দেশের ওপর হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ।
  • মানবাধিকার কমিশনের তদন্তের নির্দেশকে প্রাথমিকভাবে ‘বেআইনি’ হিসেবে অভিহিত করেছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট।
  • দুই বিচারপতির পর্যবেক্ষণে মতভেদ থাকায় মামলাটি বৃহত্তর বেঞ্চে যাওয়ার সম্ভাবনা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *