মমতাকে কেন ছোঁয় না ইডি, শ্রীরামপুরের মঞ্চ থেকে মোদী-মমতা সেটিং তত্ত্ব উস্কে দিলেন রাহুল গান্ধী – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ঠিক আগে বঙ্গ রাজনীতিতে কার্যত পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটালেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। শনিবার হুগলির শ্রীরামপুরের জনসভা থেকে সরাসরি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে তিনি দাবি করেন, মমতা আসলে বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াই করেন না, বরং রাজ্যে বিজেপির প্রবেশের পথ প্রশস্ত করে দিচ্ছেন। রাহুলের এই আক্রমণাত্মক সুর বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
ইডি-সিবিআই নিয়ে প্রশ্ন ও সেটিং তত্ত্ব
নিজের ওপর কেন্দ্রীয় এজেন্সির তৎপরতার উদাহরণ টেনে রাহুল বলেন, তাঁকে ইডি ৫৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে এবং তাঁর সাংসদ পদ ও বাড়ি কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। তাঁর প্রশ্ন, বিজেপির নিয়ন্ত্রণাধীন ইডি বা সিবিআই কেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ করে না? এই মন্তব্যের মাধ্যমেই তিনি ‘বিজেপি-তৃণমূল সেটিং’ জল্পনাকে পুনরায় জনসমক্ষে নিয়ে এসেছেন।
শিল্প ও বেকারত্ব নিয়ে তোপ
হিন্দমোটরের বন্ধ কারখানার প্রসঙ্গ তুলে রাহুল অভিযোগ করেন যে, বামফ্রন্ট ও তৃণমূল পর্যায়ক্রমে বাংলার শিল্পকে ধ্বংস করেছে। তাঁর মতে, বর্তমানে বাংলায় চাকরি পেতে হলে তৃণমূল নেতার আত্মীয় হওয়া আবশ্যিক। মোদীর সাথে আদানির সম্পর্কের তুলনা টেনে তিনি সারদা ও রোজভ্যালি কান্ডকে গরিবের টাকা লুঠের মাধ্যম হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। একইসঙ্গে আরজি করের ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে নারী নিরাপত্তা নিয়েও রাজ্য সরকারকে বিঁধেছেন তিনি।
তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য রাহুলের এই অভিযোগকে দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার দাবি, কংগ্রেস আসলে বিজেপিকে হারাতে ব্যর্থ। ভোটের মুখে এই বাকযুদ্ধ স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, বাংলার রাজনৈতিক ময়দানে লড়াই এখন বহুমুখী হয়ে উঠেছে, যার প্রভাব সরাসরি ব্যালট বক্সে পড়ার সম্ভাবনা প্রবল।
এক ঝলকে
- শ্রীরামপুরের সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও নরেন্দ্র মোদীর মধ্যে গোপন আঁতাতের অভিযোগ তুললেন রাহুল গান্ধী।
- কেন্দ্রীয় এজেন্সি কেন মমতাকে জেরা করে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ‘সেটিং’ তত্ত্ব উস্কে দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা।
- শিল্প ধ্বংস ও নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেছেন তিনি।
- পাল্টায় রাহুল গান্ধীকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব।
