মমতার ডাকা প্রথম বৈঠকেই গরহাজির ১১ বিধায়ক, তুঙ্গে তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্বের জল্পনা!

তৃণমূল কংগ্রেসের বিপুল জয়ের পর নতুন পরিষদীয় দলের প্রথম বৈঠকেই দেখা দিল তালকাটা পরিস্থিতি। কালীঘাটে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় জয়ী প্রার্থীদের মধ্যে অন্তত ১১ জন অনুপস্থিত ছিলেন। বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর যেখানে দলের সংহতি প্রদর্শনের কথা ছিল, সেখানে এত সংখ্যক বিধায়কের গরহাজিরা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য।
অনুপস্থিতির তালিকা ও নেতৃত্বের ব্যাখ্যা
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, অনুপস্থিত বিধায়কদের তালিকায় রয়েছেন বীরভূমের কাজল শেখ, মুর্শিদাবাদের বায়রন বিশ্বাস ও মুস্তাফিজুর রহমান এবং উত্তর ২৪ পরগনার কাশেম সিদ্দিকির মতো পরিচিত নাম। দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এলাকায় নির্বাচন পরবর্তী অশান্তি সামাল দেওয়া এবং আক্রান্ত কর্মীদের পাশে থাকার নির্দেশ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই তাঁদের দিয়েছেন। বিশেষ করে নানুরে রাজনৈতিক অশান্তিতে একজনের মৃত্যু হওয়ায় কাজল শেখকে এলাকায় থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে বাকিদের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ স্পষ্ট না হওয়ায় খোদ দলের অন্দরেই বিস্ময় তৈরি হয়েছে।
কঠোর হুঁশিয়ারি ও অনুশাসনের বার্তা
এই বৈঠকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, দলের শৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো আপস করা হবে হবে না। যারা দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যাবেন বা বিশ্বাসঘাতকতা করবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে দলের এক্স হ্যান্ডেল (পূর্বতন টুইটার) থেকে একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, অনেক নেতা সংবাদমাধ্যম বা সামাজিক মাধ্যমে ব্যক্তিগত মতামত দিচ্ছেন, যা কোনোভাবেই দলের বক্তব্য নয়।
সম্ভাব্য প্রভাব ও রাজনৈতিক সমীকরণ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম বৈঠকেই ১১ জন বিধায়কের অনুপস্থিতি শাসক দলের অভ্যন্তরীণ ফাটল বা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হতে পারে। একদিকে কাজল শেখের মতো নেতাদের এলাকায় আধিপত্য বজায় রাখার চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে বায়রন বিশ্বাসের মতো নবাগতদের অবস্থান—সব মিলিয়ে তৃণমূলের অন্দরে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার লড়াই শুরু হওয়ার সংকেত দিচ্ছে এই ঘটনা। দলের এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি বিরোধীদের হাতেও নতুন হাতিয়ার তুলে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। আপাতত দূরের জেলা থেকে আসা বিধায়কদের কলকাতায় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা থেকে স্পষ্ট যে পরিস্থিতি সামাল দিতে তৎপর শীর্ষ নেতৃত্ব।
