মমতার পার্টি অফিসে সিআইডি হানা, দলে তীব্র ভাঙন! ইন্দিরা গান্ধীর ‘কামব্যাক’ ম্যাজিকেই কি বাঁচবে কেষ্টর দিদি? – এবেলা

মমতার পার্টি অফিসে সিআইডি হানা, দলে তীব্র ভাঙন! ইন্দিরা গান্ধীর ‘কামব্যাক’ ম্যাজিকেই কি বাঁচবে কেষ্টর দিদি? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নয়াদিল্লি: তৃণমূলের অন্দরে নজিরবিহীন ভাঙনের জল্পনা, বিদ্রোহী গোষ্ঠীর উত্থান আর দলের নাম-প্রতীক নিয়ে তীব্র টানাপোড়েন— সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন ফুটছে। এর মধ্যেই খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পার্টি অফিসে সিআইডি (CID) তল্লাশি অভিযান চালানোয় তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। দিদির এই চরম দুর্দিনে রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই চর্চা— ইন্দিরা গান্ধীর মতোই কি ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন মমতা?

ইতিহাস বলছে, ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীও নিজের দল থেকেই দু’বার বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। কিন্তু ফিনিক্স পাখির মতো ছাই উড়িয়ে ফিরে এসে ফের দেশের মসনদে বসেছিলেন। আজ তৃণমূলের এই সংকটে অনেকেই মমতার সঙ্গে ইন্দিরার সেই ঐতিহাসিক লড়াইয়ের মিল খুঁজে পাচ্ছেন।

যখন দল থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল ইন্দিরাকে

  • ১৯৬৯ সালের প্রথম ধাক্কা: কংগ্রেসের পুরনো ও শক্তিশালী সিন্ডিকেট নেতৃত্বের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন ইন্দিরা গান্ধী। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের অফিসিয়াল প্রার্থীর বিরুদ্ধে গিয়ে তিনি ভি ভি গিরিকে সমর্থন করেন। ফলস্বরূপ, তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি এস নিজালিঙ্গাপ্পা ইন্দিরা গান্ধীকে দল থেকে বহিষ্কার করেন। কংগ্রেস ভেঙে টুকরো হয়ে যায়।
  • ১৯৭৮ সালের দ্বিতীয় বহিষ্কার: জরুরি অবস্থার পর ১৯৭৭ সালে ইন্দিরার চরম পরাজয় ঘটে। দল ও ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা তাঁর হাত ছেড়ে দেন। ১৯৭৮ সালের জানুয়ারিতে ইন্দিরা অনুগামীরা তাঁকে কংগ্রেস সভাপতি ঘোষণা করলে, মূল নেতৃত্ব তাঁকে আবারও দল থেকে বহিষ্কার করে। জন্ম নেয় নতুন দল ‘কংগ্রেস (আই)’।

হাতির পিঠে চড়ে ঘুরে দাঁড়ানো এবং ‘গরিবি হটাও’ ম্যাজিক

দল হারালেও ইন্দিরার সবচেয়ে বড় অস্ত্র ছিল জনসমর্থন। ১৯৬৯ সালে ১৪টি ব্যাংক জাতীয়করণ করে তিনি সাধারণ মানুষের নয়নের মণি হয়ে ওঠেন। ১৯৭১ সালে ‘গরিবি হটাও’ স্লোগান দিয়ে বিপুল ভোটে জেতেন।

আবার ১৯৭৭ সালে ক্ষমতা হারানোর পর যখন চারদিকে তাঁর চরম দুর্দিন, তখন বিহারের বেলচিতে দলিত নির্যাতনের খবর পেয়ে বন্যাকবলিত এলাকায় হাতির পিঠে চড়ে পৌঁছে যান ইন্দিরা। এই এক জেদ আর লড়াই তাঁকে আবারও জননেত্রীর আসনে বসায়। ফলস্বরূপ, মাত্র দু’বছরের মধ্যে ১৯৮০ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ফের দেশের প্রধানমন্ত্রী হন তিনি।

মমতার সামনেও কি একই পথ?

বর্তমানে তৃণমূলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও অন্য শিবিরের টানাপোড়েন, অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সঙ্গে মমতার বৈঠক এবং সুকান্ত মজুমদার বা শুভঙ্কর সরকারের মতো কংগ্রেস নেতাদের ‘মমতাকে কংগ্রেসে স্বাগত’ জানানোর জল্পনা রাজনীতিকে নতুন মোড় দিয়েছে। সোনিয়া গান্ধী অত্যন্ত ‘ক্ষমাশীল’ বলে অধীর চৌধুরীর মন্তব্যও দুই দলের মিলনের জল্পনা উস্কে দিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইন্দিরার ইতিহাস একটাই শিক্ষা দেয়— হাত থেকে দলীয় সংগঠন বা প্রতীক চলে গেলেও যদি ‘জনসমর্থন’ সঙ্গে থাকে, তবে রাজনীতির আঙিনায় যেকোনো মুহূর্তে ‘কামব্যাক’ করা সম্ভব। এখন দেখার, ইন্দিরা গান্ধীর সেই জাদুকরী পথেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারেন কি না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *