মমতার বিদায় নিশ্চিত হতেই মাথায় চুল রাখছেন কৌস্তভ, প্রস্তুত স্ত্রীও

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগোতেই ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে বইছে অকাল বসন্তের গেরুয়া আবির। এই রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে সবথেকে বেশি চর্চায় উঠে এসেছেন ব্যারাকপুরের বিজেপি প্রার্থী কৌস্তভ বাগচি। দীর্ঘ তিন বছরের কঠোর শপথ ভেঙে অবশেষে মাথায় চুল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
প্রতিজ্ঞা পূরণ ও ডাবল ভিক্ট্রি
২০২৩ সালের ৪ মার্চ চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলনে শামিল হয়ে কৌস্তভ বাগচি মাথা মুড়িয়ে এক কঠিন প্রতিজ্ঞা করেছিলেন— মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ক্ষমতাচ্যুত না করা পর্যন্ত তিনি মাথায় চুল রাখবেন না। আজ ভোটের ফলাফল স্পষ্ট হতেই কৌস্তভ সংবাদমাধ্যমের সামনে জানান, তাঁর সেই স্বপ্ন সত্যি হতে চলেছে। গণনা কেন্দ্রের প্রবণতা অনুযায়ী, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূলের রাজ চক্রবর্তীর থেকে বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন তিনি। জয়ের আভাস পেয়েই তিনি ঘোষণা করেছেন, “আজকের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন, তাই আজ থেকে আমার মাথায় আবার চুল গজাবে।”
উচ্ছ্বসিত পরিবার ও রাজনৈতিক প্রভাব
কৌস্তভের এই জয়ে সমানে শামিল হয়েছেন তাঁর স্ত্রী প্রীতিও। দীর্ঘদিনের লড়াই ও স্বামীর ত্যাগের দাম মেলায় তিনি আগেভাগেই প্রিয় ব্র্যান্ডের শ্যাম্পু কিনে উপহার হিসেবে প্রস্তুত রেখেছেন। কৌস্তভের এই জয়কে কর্মী-সমর্থকেরা ‘ডবল ভিক্ট্রি’ হিসেবে দেখছেন— একদিকে বিধানসভার সদস্য পদ প্রাপ্তি এবং অন্যদিকে নিজের নেওয়া শপথের সার্থক সমাপ্তি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্যারাকপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসনে রাজ চক্রবর্তীর মতো তারকা প্রার্থীকে পরাজিত করা বিজেপির জন্য বড় মাইলফলক। সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামের মতো জমি আন্দোলনের প্রধান কেন্দ্রগুলোতে তৃণমূলের পরাজয় এবং ব্যারাকপুরে কৌস্তভের জয় রাজ্যে শাসকদলের ভিত নড়বড়ে হওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই জয়ের ফলে উত্তর ২৪ পরগনার শিল্পাঞ্চলে বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি আরও সুসংহত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
