মমতার সঙ্গ ছেড়ে কেন পদ্ম-শিবিরে! মুখ খুললেন বিদ্রোহী তৃণমূল নেতারা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যে পালাবদল ঘটতেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সঙ্গীরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়ে হাত মিলিয়েছেন শাসক শিবিরের সঙ্গে। ২০ জন সাংসদ এবং ৬৮ জন বিধায়কের এই আচমকা ‘পদ্ম-সন্ধি’ নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে বিস্তর জল্পনা তৈরি হয়েছিল। অবশেষে ঘরোয়া বৈঠকে তৃণমূলের এই বিদ্রোহী নেতারা তাঁদের দলত্যাগের আসল কারণ খোলসা করেছেন।
কর্মীদের সুরক্ষা ও উন্নয়নের বাধ্যবাধকতা
বিদ্রোহী বিধায়ক ও সাংসদদের দাবি, এই রাজনৈতিক অবস্থান বদল কেবল নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য নয়। নিচুতলার কর্মী-সমর্থকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়ন অব্যাহত রাখতেই তাঁরা এই আপস করতে বাধ্য হয়েছেন। নেতাদের অভিযোগ, সরকার পরিবর্তনের পর সাধারণ তৃণমূল কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় কালীঘাট থেকে কেবল মৌখিক আশ্বাস ছাড়া আর কোনো বাস্তব সাহায্য মেলেনি। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দল হারলেও বিজেপি বিধায়কদের সুরক্ষায় কেন্দ্রীয় বাহিনী ছিল, কিন্তু বর্তমানে তৃণমূল কর্মীদের পুলিশি হয়রানি ও হামলার হাত থেকে বাঁচাতে শীর্ষ নেতৃত্ব সম্পূর্ণ ব্যর্থ। এই অসহায় পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতেই তাঁরা নতুন সরকারের সঙ্গে বোঝাপড়ায় এসেছেন।
রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন প্রভাব
এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ইতিবাচক প্রভাব ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় পড়তে শুরু করেছে। বিদ্রোহী বিধায়কদের দাবি, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে এই রাজনৈতিক বোঝাপড়ার ফলে তাঁদের এলাকাগুলোতে উত্তেজনা এবং পুলিশের অকারণ হয়রানি অনেকটাই কমেছে। দলীয় কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে এবং বিধায়করা নির্বিঘ্নে নিজেদের বিধানসভা কেন্দ্রে যাতায়াত করতে পারছেন। সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখায় এলাকার প্রতিশ্রুত উন্নয়নমূলক কাজের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন ও প্রকল্প মঞ্জুর করাও সম্ভব হচ্ছে। বাংলায় তৃণমূলের এই বিরাট ভাঙন এবং নতুন সরকারের সঙ্গে বিদ্রোহী শিবিরের এই অলিখিত চুক্তি রাজ্যের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক রসায়নকে এক সম্পূর্ণ নতুন রূপ দিচ্ছে।
