মমতা দিদির মতো আমি দয়ালু নই! নির্বাচনের পরেই কি কড়া পদক্ষেপের পথে অভিষেক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দর্শনে এবার বড়সড় বদলের ইঙ্গিত দিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১১ সালে ক্ষমতা পরিবর্তনের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘বদলা নয়, বদল চাই’ স্লোগান দিয়ে যে উদারতার পরিচয় দিয়েছিলেন, তার বিপরীতে গিয়ে অভিষেক সরাসরি হুঁশিয়ারি দিলেন বিরোধীদের। আরামবাগের নির্বাচনী জনসভা থেকে তিনি স্পষ্ট জানান, নেত্রীর মতো তিনি অতটা দয়ালু নন। ফল ঘোষণার দিন থেকেই বিরোধীদের প্রতিটি কাজের ‘কড়ায়-গণ্ডায়’ জবাব দেওয়া হবে বলে তিনি রীতিমতো চরম বার্তা দিয়েছেন।
বদল বনাম বদলার সংঘাত
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভিষেকের এই মন্তব্য কেবল নির্বাচনী ভাষণ নয়, বরং ২০২৬ সালের মহারণের আগে দলের রণকৌশলে বড় পরিবর্তনের সংকেত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেখানে বরাবরই সহনশীলতা ও রাজনৈতিক উদারতাকে প্রাধান্য দিয়েছেন, সেখানে অভিষেক বেছে নিচ্ছেন সরাসরি সংঘাতের পথ। কেন্দ্রীয় এজেন্সির অতিসক্রিয়তা এবং নিচুতলার কর্মীদের ওপর আক্রমণের অভিযোগ তুলে তিনি সাফ জানিয়েছেন, সব ঘটনার হিসেব রাখা হচ্ছে এবং সময়মতো তার বিচার হবে।
কঠোর অবস্থানের নেপথ্য কারণ
তৃণমূলের অন্দরে অভিষেকের এই রুদ্রমূর্তির পেছনে একাধিক কারণ দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। একদিকে ইডি ও সিবিআইয়ের ক্রমাগত চাপ, অন্যদিকে দলের কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা রাখা—উভয় ক্ষেত্রেই নিজের ভাবমূর্তিকে আরও কঠোর হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন তিনি। অভিষেকের দাবি, বিজেপি ক্ষমতার অপব্যবহার করে তৃণমূল কর্মীদের হেনস্থা করছে, যার পাল্টা জবাব দেওয়া এখন সময়ের দাবি। তাঁর এই বক্তব্য তৃণমূলের পুরনো ‘বদল’ স্লোগানকে কার্যত চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে।
রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া
অভিষেকের এই ‘বদলা’র সুর রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক উসকে দিয়েছে। বিরোধীদের দাবি, পরাজয়ের আশঙ্কায় শাসক দল এখন হুমকির রাজনীতি শুরু করেছে। তবে তৃণমূলের একাংশ মনে করছে, সংগঠনের রাশ শক্ত করতে এবং বিরোধীদের পাল্টা চাপে রাখতে এই কঠোর অবস্থান অত্যন্ত জরুরি ছিল। ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর বঙ্গ রাজনীতিতে বড় কোনো প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক রদবদল ঘটে কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
এক ঝলকে
- ‘বদলা নয়, বদল চাই’ স্লোগান থেকে সরে এসে বিরোধীদের কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
- নিজেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো দয়ালু বা উদার নয় বলে দাবি করে হিসাব বুঝে নেওয়ার বার্তা দিয়েছেন।
- কেন্দ্রীয় এজেন্সির ব্যবহার ও কর্মীদের ওপর আক্রমণের পাল্টা জবাব দিতে ৪ মে তারিখকে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন।
- রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২৬ নির্বাচনের আগে দলের রাশ শক্ত করতেই এই নতুন ও আক্রমণাত্মক কৌশল।
