মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিকিৎসা প্রয়োজন! পরাজয় না মানা নিয়ে বিস্ফোরক মানসী সিনহা – এবেলা

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিকিৎসা প্রয়োজন! পরাজয় না মানা নিয়ে বিস্ফোরক মানসী সিনহা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্যের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আবহে এবার সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ নিয়ে মুখ খুললেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী তথা বাম সমর্থক মানসী সিনহা। দীর্ঘ ১৫ বছর পর রাজ্যে ক্ষমতার হাতবদল হওয়ার পর বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিনি দাবি করেছেন, তৃণমূল আদতে একটি ‘ওয়ান ম্যান শো’ হিসেবে পরিচালিত হতো, যেখানে বর্তমানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের অবস্থান শক্ত করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একপ্রকার কোণঠাসা বা ‘সাইড’ করে দিয়েছেন।

তৃণমূলের সাংগঠনিক ব্যর্থতা ও অভিষেকের উত্থান

মানসী সিনহার মতে, একটি আঞ্চলিক দল হিসেবে সর্বভারতীয় শক্তির সঙ্গে লড়াই করার জন্য যে মানসিক উচ্চতা এবং সঠিক ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন ছিল, তৃণমূল তা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। তাঁর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বামফ্রন্টের বিতর্কিত নেতাদের দলে টেনে নিয়ে তৃণমূল যে পরিকাঠামো গড়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত টেকসই হয়নি। দলের অন্দরে ক্ষমতার ভারসাম্যের পরিবর্তন এবং সাংগঠনিক দুর্বলতাই এই পতনের অন্যতম কারণ বলে তিনি মনে করছেন।

নেতৃত্বের মানসিক স্থিরতা নিয়ে প্রশ্ন

নির্বাচনের ফলাফল পরবর্তী সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আচরণ ও পরাজয় মেনে না নেওয়ার মানসিকতা নিয়েও কড়া সমালোচনা করেছেন এই অভিনেত্রী। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, পরাজয় স্বীকার না করা এবং ক্রমাগত অসংলগ্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া এক ধরনের মানসিক অস্থিরতার লক্ষণ। মানসী সিনহার দাবি, এই পরিস্থিতিতে তাঁর পরিবারের উচিত মমতার স্বাস্থ্যের প্রতি নজর দেওয়া এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া। প্রবীণ এই নেত্রীর বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থানকে তিনি জনসমক্ষে ‘নতুন করে অপমানিত হওয়া’ হিসেবেই দেখছেন।

ভবিষ্যৎ রাজনীতির মেরুকরণ

রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তৃণমূলের প্রাসঙ্গিকতা হারিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করেন মানসী সিনহা। তাঁর মতে, আগামী দিনে বাংলার মূল লড়াই হবে বিজেপি এবং বামেদের মতো দুটি সর্বভারতীয় শক্তির মধ্যে। নতুন সরকারের প্রতি মানুষের প্রত্যাশার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, মানুষ নিশ্চিতভাবেই ভালো কিছুর আশায় পরিবর্তন এনেছে। এখন দেখার বিষয়, নতুন শাসকদল তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে কি না। তবে তৃণমূলের এই সাংগঠনিক বিপর্যয় এবং শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যকার দূরত্ব রাজ্যের রাজনীতিতে এক বড়সড় প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *