মরেও ফিরে আসা ২০ মিনিট! মৃত্যুর পরের জগত কেমন? অলৌকিক অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন এই ব্যক্তি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মৃত্যুর ওপারে আসলে কী আছে, তা নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই মানবজাতির। দীর্ঘ চার দশক নীরব থাকার পর আমেরিকার বাসিন্দা স্কট ড্রামন্ড সম্প্রতি নিজের এক বিস্ময়কর অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে এনেছেন। মাত্র ২৮ বছর বয়সে একটি অস্ত্রোপচারের টেবিলে প্রায় ২০ মিনিটের জন্য চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় মৃত হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। সেই স্বল্প সময়ে মহাজাগতিক এক ভ্রমণের অভিজ্ঞতাই এখন আধুনিক বিজ্ঞান ও বিশ্বাসের দ্বন্দ্বে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
অস্ত্রোপচার থেকে পরলৌকিক যাত্রা
একটি সাধারণ আঙুলের অস্ত্রোপচারের সময় ভুলবশত ড্রামন্ডের শরীরে রক্তপ্রবাহে সমস্যা তৈরি হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ড্রামন্ডের দাবি, সেই মুহূর্তে তিনি নিজের নিথর শরীরকে অপারেশন টেবিলে পড়ে থাকতে দেখেন এবং নার্সের আর্তচিৎকারও শুনতে পান। এরপর কোনো এক অদৃশ্য শক্তির টানে তিনি পৌঁছে যান অতিপ্রাকৃত এক সুন্দর উপত্যকায়। তার বর্ণনায়, সেই স্থানটি ছিল বর্ণনাতীত প্রশান্তি ও উজ্জ্বল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা।
জীবনের বিচার ও পুনর্জন্ম
সেখানে অবস্থানকালে ড্রামন্ডের সামনে এক অলৌকিক ভিডিওর মতো তার সারাজীবনের ভালো-মন্দের হিসাব ভেসে ওঠে। তিনি জানান, কোনো বিচারক ছাড়াই তিনি নিজের প্রতিটি কাজের প্রভাব অনুভব করতে পারছিলেন। এরপর একটি মেঘের হাত তাকে স্পর্শ করে এবং জানানো হয় যে, পৃথিবীতে তার কাজ এখনো শেষ হয়নি। এই বার্তার পরপরই তিনি পুনরায় নিজের শরীরে প্রাণ ফিরে পান।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের তথাকথিত ‘নিয়ার ডেথ এক্সপেরিয়েন্স’ বা এনডিই-এর মাধ্যমে ড্রামন্ডের এই অভিজ্ঞতা ব্যাখ্যার চেষ্টা করা হলেও, ফিরে এসে জীবনের প্রতি তার বদলে যাওয়া দৃষ্টিভঙ্গি অনেককেই নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, বিজ্ঞান যেখানে থমকে দাঁড়ায়, সেখান থেকেই হয়তো শুরু হয় অন্য কোনো রহস্যময় জগতের হাতছানি।
এক ঝলকে
- স্কট ড্রামন্ড নামের এক ব্যক্তি ২৮ বছর বয়সে অস্ত্রোপচারের সময় ২০ মিনিটের জন্য মৃত ঘোষিত হয়েছিলেন।
- মৃত্যুর সেই সময়ে তিনি একটি অদ্ভুত সুন্দর বাগান, সাদা মেঘ এবং নিজের জীবনের ভালো-মন্দের হিসাব দেখার দাবি করেছেন।
- কোনো এক অদৃশ্য ঐশ্বরিক হাত তাকে পৃথিবীতে কাজ বাকি থাকার বার্তা দিয়ে পুনরায় ফিরিয়ে আনে।
- দীর্ঘ বছর পর তার এই অভিজ্ঞতা মানুষের মনে মৃত্যু ও পরবর্তী জীবন নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
