মহাকুম্ভ পদপিষ্টকাণ্ডে হাইকোর্টের কড়া নির্দেশ! ৩০ দিনের মধ্যে দিতে হবে ক্ষতিপূরণ, জেলা প্রশাসনকে সময় বাঁধল আদালত

মহাকুম্ভ পদপিষ্টকাণ্ডে হাইকোর্টের কড়া নির্দেশ! ৩০ দিনের মধ্যে দিতে হবে ক্ষতিপূরণ, জেলা প্রশাসনকে সময় বাঁধল আদালত

প্রয়াগরাজে মহাকুম্ভ মেলায় মৌনী অমাবস্যার পুণ্যস্নানে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়টি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশনের এক্তিয়ারভুক্ত নয়, বরং এটি জেলা প্রশাসন ও মেলা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। মৃতদের পরিবার বা ক্ষতিগ্রস্তদের করা আবেদনের ওপর জেলা প্রশাসনকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে আদালত।

বিচার বিভাগীয় কমিশনের ভূমিকা ও আদালতের পর্যবেক্ষণ
বিচারপতি অজিত কুমার এবং বিচারপতি সত্য বীর সিংয়ের ডিভিশন বেঞ্চ সঞ্জয় কুমার শর্মা নামক এক ব্যক্তির আবেদনের প্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন। আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছে, তদন্ত কমিশনের মূল কাজ হলো ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করা এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের দুর্ঘটনা রোধে সুপারিশ করা। রাজ্য সরকার যেহেতু দুর্ঘটনার বিষয়টি অস্বীকার করেনি এবং ইতোমধ্যে কিছু পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিয়েছে, তাই পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনাটি প্রমাণের জন্য কমিশনের রিপোর্টের অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই।

ক্ষতিপূরণ প্রক্রিয়া সহজীকরণের নির্দেশ
আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, ক্ষতিপূরণের প্রতিটি দাবি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা মেলা কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হবে। পুলিশি তদন্তের রিপোর্ট এবং হাসপাতালের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তার তৈরি ময়নাতদন্ত রিপোর্টকে চূড়ান্ত তথ্য হিসেবে গণ্য করে ৩০ দিনের মধ্যে ফয়সালা করতে হবে। এই নির্দেশের ফলে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দ্রুত আর্থিক সহায়তা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। আদালত আরও জানিয়েছে, আগামী ৭ মে-র মধ্যে এই সংক্রান্ত আদেশ পালনের হলফনামা পেশ করতে হবে।

এক ঝলকে

  • মহাকুম্ভে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনায় ক্ষতিপূরণের দায়িত্ব জেলা প্রশাসন ও মেলা কর্তৃপক্ষকে দিল হাইকোর্ট।
  • ক্ষতিপূরণের আবেদন জমা দেওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
  • তদন্ত কমিশনকে শুধুমাত্র দুর্ঘটনার কারণ ও প্রশাসনিক ত্রুটি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
  • পুলিশি রিপোর্ট ও ময়নাতদন্তের কাগজপত্রের ভিত্তিতেই দ্রুত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *