মাছের চেয়েও পটকার দাম বেশি! বিয়ার থেকে ওষুধ—কোটি টাকার এই অংশটি কি আপনিও ফেলে দেন? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিশাল আকৃতির তেলিয়া ভোলা মাছ বাজারে উঠলেই হইচই পড়ে যায়। লক্ষাধিক টাকায় নিলাম হওয়া এই মাছের মূল আকর্ষণ কিন্তু তার শরীরেই লুকিয়ে থাকা একটি অংশ— মাছের পটকা বা ‘সুইম ব্লাডার’ (Swim Bladder)। অনেকেই হয়তো জানেন এটি দিয়ে ওষুধ তৈরি হয়, তবে এর ব্যবহার এবং দাম জানলে আপনার চোখ কপালে উঠবে!
আকাশছোঁয়া দাম ও চাহিদার রহস্য তেলিয়া ভোলার পটকার বাজারদর আস্ত মাছের দামকেও ছাড়িয়ে যায়। অনেক সময় ১০০ গ্রাম ওজনের একটি পটকা এক হাজার টাকায় বিকোয়। সাইজ বড় হলে কেজি প্রতি দাম পৌঁছে যায় ১৫ থেকে ১৮ হাজার টাকায়! মৎস্য বিজ্ঞানীদের মতে, এই পটকা কেনার জন্য শিকারির মতো ওঁত পেতে থাকেন একদল ব্যবসায়ী। কারণ, এটি দেশ-বিদেশ থেকে চড়া দামে কিনে চিন, হংকং, সিঙ্গাপুর ও আমেরিকার মতো দেশে রপ্তানি করা হয়।
কিন্তু এত দাম কেন? অনেকেই অজ্ঞতার কারণে এই মূল্যবান পটকা ফেলে দেন, ফলে বড় অঙ্কের মুনাফা থেকে বঞ্চিত হন।
কোথায় কোথায় কাজে লাগে মাছের পটকা? মৎস্যবিজ্ঞানী ও গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, তেলিয়া ভোলার পটকা নানা শিল্পে অত্যন্ত মূল্যবান:
- বিয়ার ফিল্টারিংয়ে: জ়ুওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার মৎস্যবিজ্ঞানী অনিল মহাপাত্র জানান, বিয়ার স্বচ্ছ করতে মাছের পটকার জুড়ি মেলা নেই। পটকা থেকে নিষ্কাশিত কোলাজেন প্রোটিন আইসিন গ্লাসের (Isinglass) মাধ্যমে বিয়ারের ঘোলা ভাব দূর করে।
- ওষুধ ও চিকিৎসা শিল্পে: বাজকুল মালিনী মহাবিদ্যালয়ের অধ্যাপক তথা মৎস্যবিজ্ঞানী দীপাঞ্জন রায় জানান, তেলিয়া ভোলার পটকার আকার বড় হওয়ায় এতে প্রচুর কোলাজেন থাকে। যা মেডিসিন ইন্ডাস্ট্রিতে ওষুধের ক্যাপসুলের আবরণ এবং সার্জারির পরে সেলাইয়ের সুতো তৈরিতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
- বিলাসবহুল খাবার ও স্যুপ: শুধু শিল্প বা ওষুধ নয়, মাছের পটকা দিয়ে অত্যন্ত পুষ্টিকর ও সুস্বাদু স্যুপ তৈরি হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে, বিশেষ করে জাপানে এটি ‘ফিস ম’ (Fish Maw) নামে পরিচিত। চিন, জাপান ও সিঙ্গাপুরের মতো দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোতে এর ব্যাপক কদর রয়েছে।
সচেতনতার অভাব হাওড়া মাছ মার্কেটের সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ ও রাজ্যের মৎস্য দপ্তরের আধিকারিক সুমনকুমার সাহু মনে করেন, জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের মৎস্যজীবীরা আজও পটকার সঠিক কদর বা বাজারদর সম্পর্কে পুরোপুরি ওয়াকিবহাল নন। ফলে অনেক সময় কম দামেই তাঁদের কাছ থেকে এই মূল্যবান জিনিসটি কিনে নেন এক শ্রেণির চালাক ব্যবসায়ী। এই বিষয়ে সঠিক সচেতনতা তৈরি হলে মাছ বিক্রেতা ও চাষিরা আরও অনেক বেশি লাভবান হতে পারবেন।
