মাঝপথে বিপদে হাত বাড়াবে ‘মেরি সহেলি’! ট্রেনে একা মহিলা যাত্রীদের নিরাপত্তায় আরপিএফের মেগা প্ল্যান – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে: দূরপাল্লার বা সাধারণ ট্রেন যাত্রা—একা ভ্রমণ করা মহিলা ও শিশুদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবার আরও কড়া অবস্থান নিয়েছে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের রেলওয়ে সুরক্ষা বাহিনী (RPF)। নজরদারি জোরদার করা, দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং নারীকেন্দ্রিক একের পর এক সফল অভিযানের মাধ্যমে যাত্রীদের নিরাপত্তার নতুন বার্তা দিয়েছে আরপিএফ।
১. একা মহিলা যাত্রীদের ভরসা ‘মেরি সহেলি’:
একা ভ্রমণরত মহিলা যাত্রীদের সুরক্ষিত ও স্বাচ্ছন্দ্যময় অভিজ্ঞতা দিতে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের ২২টি স্পর্শকাতর ও প্রধান স্টেশনে মোতায়েন করা হয়েছে বিশেষ আরপিএফ স্কোয়াড। ‘মেরি সহেলি’ উদ্যোগের মাধ্যমে এই বিশেষ দলের সদস্যরা একা থাকা মহিলা যাত্রীদের কাছে গিয়ে কথা বলছেন এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তার আশ্বাস দিচ্ছেন। এ ছাড়া, প্রতিদিন গড়ে ৪৫টি ট্রেনে নিরাপত্তা প্রহরা দেওয়া হচ্ছে, যার মধ্যে ১৩টি দূরপাল্লার মেইল/এক্সপ্রেস ট্রেনে সার্বক্ষণিক নজর রাখছে পুরুষ ও মহিলা আরপিএফ সদস্যদের মিশ্র স্কোয়াড।
২. মহিলা কামরায় অননুমোদিত পুরুষ প্রবেশ রুখতে কড়া আইনি পদক্ষেপ:
মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত কামরায় পুরুষদের অননুমোদিত অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে রেল আইনের ১৬২ ধারার অধীনে ২,৪৬৬ জন পুরুষ যাত্রীকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি, ‘জন বিশ্বাস আইন’-এর আওতায় ২১৯ জনকে গ্রেপ্তার করে প্রায় ৪.৯ লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করেছে আরপিএফ।
৩. আপৎকালীন সেবায় ‘মাতৃশক্তি’ ও শিশু সুরক্ষায় ‘নন্হে ফরিশতে’:
চলন্ত ট্রেনে বা রেল চত্বরে সন্তানসম্ভবা নারীদের জরুরি চিকিৎসা সহায়তায় অসাধারণ ভূমিকা পালন করেছে আরপিএফ-এর ‘মাতৃশক্তি’ অভিযান। চলতি বছরেই প্রসব যন্ত্রণায় কাতর ২ জন মহিলাকে নিরাপদ প্রসব ও চিকিৎসায় সরাসরি সাহায্য করেছেন আরপিএফের মহিলা আধিকারিকেরা।
অন্যদিকে, শিশু সুরক্ষা ও মানব পাচার প্রতিরোধে ‘নন্হে ফরিশতে’ অভিযানের মাধ্যমে বিরাট সাফল্য মিলেছে। ২০২৬-এর প্রথম ৯ মাসে ঘরছাড়া, নিখোঁজ ও অসহায় অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে ৫৯১ জন শিশুকে (৩৮৭ জন ছেলে ও ২০৪ জন মেয়ে), যাদের নিরাপদে চাইল্ডলাইনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া, মানব পাচারকারীদের খপ্পর থেকে ১৩ জন নাবালক-নাবালিকা ও ৯ জন মহিলাসহ মোট ২২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে এবং ১০ জন পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
৪. প্রযুক্তি ও ‘রেল মদদ’-এর সাহায্যে দ্রুত পরিষেবা:
হারিয়ে যাওয়া বা চুরি হওয়া মোবাইল উদ্ধারে ‘সিইআইআর’ (CEIR) পোর্টাল ব্যবহার করে আরপিএফ ২,৪৩৭টি ফোনের অবস্থান শনাক্ত করেছে। এর মধ্যে ৩৫২টি ফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ২১ জন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া, স্টেশনে বা ট্রেনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির দায়ে ১,০২৩ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের ফেলে যাওয়া মালামাল সংক্রান্ত ৩২১টি ঘটনা ও অন্যান্য অভিযোগ ‘রেল মদদ’ পোর্টালের মাধ্যমে দ্রুততার সঙ্গে সমাধান করা হয়েছে।
