মাঝরাতে মুকুটমণির তিনটি ফ্ল্যাট সিল করল পুলিশ, নেপথ্যে বিপুল সরকারি ত্রাণ মজুতের অভিযোগ! – এবেলা

মাঝরাতে মুকুটমণির তিনটি ফ্ল্যাট সিল করল পুলিশ, নেপথ্যে বিপুল সরকারি ত্রাণ মজুতের অভিযোগ! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রানাঘাট দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক মুকুটমণি অধিকারীর কল্যাণীর তিনটি ফ্ল্যাট সিল করে দিল পুলিশ। শনিবার রাতে নোটিস পাঠানোর মাত্র আধ ঘণ্টার মধ্যে ফ্ল্যাটের চাবি না খোলায় প্রশাসনের তরফ থেকে এই কড়া পদক্ষেপ করা হয়েছে। বিজেপির তরফে ওই ফ্ল্যাটগুলিতে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণসামগ্রী বেআইনিভাবে মজুত রাখার অভিযোগ দায়ের করার পরেই তৎপর হয় প্রশাসন।

মাঝরাতে কড়া পুলিশি পদক্ষেপ ও অভিযোগের নেপথ্য

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাত ১০টা নাগাদ প্রাক্তন বিধায়ককে ইমেল মারফত একটি জরুরি নোটিস পাঠানো হয়। সেখানে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া ছিল যে, নোটিস পাওয়ার ৩০ মিনিটের মধ্যে ফ্ল্যাটগুলির তালা খুলে দিতে হবে। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও মুকুটমণির তরফে কোনও সাড়া না মেলায় রাতেই ফ্ল্যাট তিনটি সিল করে পুলিশ। এই ঘটনার সূত্রপাত মূলত বিজেপি বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা কমিটির সহ-সভাপতি সব্যসাচী মুখোপাধ্যায়ের একটি লিখিত অভিযোগকে কেন্দ্র করে। তাঁর অভিযোগ, কল্যাণীর ওই তিনটি ফ্ল্যাট প্রাক্তন বিধায়ক এবং আবাসনের প্রোমোটার গৌরাঙ্গ সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ সরকারি ত্রাণসামগ্রী আসন্ন নির্বাচনে ভোটবাক্স প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে সেখানে লুকিয়ে রাখা হয়েছে বলে বিজেপির আশঙ্কা। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রোমোটারকেও ইতিমধ্যেই নোটিস পাঠিয়েছে পুলিশ।

রাজনৈতিক সমীকরণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুরের সঙ্গে মুকুটমণির গোপন বৈঠকের জেরে তৃণমূল কংগ্রেস তাঁকে আর প্রার্থী করেনি। স্থানীয়দের দাবি, ঘাসফুল শিবিরের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর থেকেই কল্যাণীর ওই ফ্ল্যাট চত্বরে তাঁকে আর দেখা যায়নি। বর্তমানে পুলিশ তদন্তের স্বার্থে তাঁর পূর্ণ সহযোগিতা দাবি করলেও প্রাক্তন বিধায়কের দিক থেকে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আবহে সরকারি ত্রাণ বেআইনিভাবে মজুতের এই অভিযোগ প্রমাণ হলে তা প্রাক্তন বিধায়কের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে গভীর সঙ্কটে ফেলার পাশাপাশি বড়সড় আইনি জটিলতা তৈরি করবে। একইসঙ্গে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভোটমুখী এলাকায় রাজনৈতিক পারদ এবং প্রশাসনিক নজরদারি দুই-ই বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *