মাঝরাস্তায় গদা হাতে স্বয়ং ‘যমরাজ’! ট্রাফিক নিয়ম ভাঙলেই কপালে দুঃখ, জলপাইগুড়িতে শোরগোল – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
শিলিগুড়ির ইস্টার্ন বাইপাস রোডে বৃহস্পতিবার বিকেলে এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের সাক্ষী হলেন সাধারণ মানুষ। গদা কাঁধে, রাগী চোখে মাঝ রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছেন খোদ ‘মৃত্যুদূত’ যমরাজ। তবে এই যমরাজ প্রাণ কেড়ে নিতে নয়, বরং প্রাণ বাঁচাতে রাস্তায় নেমেছেন। রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর ট্রাফিক আইন নিয়ে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবেই নিউ জলপাইগুড়ি ট্রাফিক গার্ড এই অভিনব সচেতনতা প্রচারের আয়োজন করে।
হেলমেটহীন যাত্রীদের যম-শাসন
পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে রাজ্যজুড়ে ট্রাফিক আইন পালনে কড়াকড়ি শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বাইক আরোহীদের হেলমেট পরা বাধ্যতামূলক করতে নিউ জলপাইগুড়ি ট্রাফিক গার্ডের এক সিভিক ভলেন্টিয়ার যমরাজের বেশ ধারণ করে রাস্তায় নামেন। হেলমেট ছাড়া বাইক চালানো বা ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্যকারীদের সামনে গিয়ে তিনি মৃত্যুর ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করেন। তবে শুধু ধমক নয়, নিয়ম মেনে চলা যাত্রীদের পুলিশের পক্ষ থেকে চকোলেট দিয়ে উৎসাহিত করা হয়।
কঠোর ব্যবস্থার পথে প্রশাসন
পুলিশের এই নমনীয় ও সৃজনশীল প্রচারের মেয়াদ ছিল শুধুমাত্র বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, শুক্রবার থেকে ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কোনো শিথিলতা দেখানো হবে না। গত তিন দিনে শুধুমাত্র কলকাতায় তিন হাজারের বেশি হেলমেটহীন আরোহীকে জরিমানা করা হয়েছে। শিলিগুড়ি ও সংলগ্ন এলাকায় এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস করা। পুলিশের বার্তা খুবই পরিষ্কার— “হেলমেট পরবেন নাকি জীবন বিপন্ন করবেন, সেই পছন্দ আপনার।” এই অভিনব উদ্যোগ যেমন পথচারীদের অবাক করেছে, তেমনি সাধারণ মানুষের মধ্যে ট্রাফিক আইন পালনের গুরুত্ব সম্পর্কে নতুন করে সচেতনতা তৈরি করেছে।
