মাঝসমুদ্রে হান্টাভাইরাসের আতঙ্ক, তেনেরিফে রুদ্ধশ্বাস উদ্ধারকাজ, মৃত ৩ – এবেলা

মাঝসমুদ্রে হান্টাভাইরাসের আতঙ্ক, তেনেরিফে রুদ্ধশ্বাস উদ্ধারকাজ, মৃত ৩ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের টেনেরিফে দ্বীপে হান্টাভাইরাস আক্রান্ত প্রমোদতরি ‘এমভি হোন্ডিয়াস’ পৌঁছানোর পর শুরু হয়েছে ব্যাপক উদ্ধার তৎপরতা। ভাইরাসের বিস্তার রোধে জাহাজটিকে মূল বন্দরে ভিড়তে না দিয়ে উপকূল থেকে কিছুটা দূরে নোঙর করানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক উদ্বেগের মধ্যে রবিবার সকাল থেকে বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে যাত্রী ও ক্রু সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করে কর্তৃপক্ষ।

নিরাপত্তা বেষ্টনী ও স্থানান্তর প্রক্রিয়া

সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে যাত্রীদের সরানোর সময় নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন সতর্কতা। জাহাজ থেকে ছোট নৌকায় করে তীরে আনার সময় প্রত্যেক যাত্রীকে নীল রঙের বিশেষ মেডিকেল প্রোটেকটিভ স্যুট পরানো হয়। বন্দর থেকে তাঁদের সরাসরি স্প্যানিশ সেনাবাহিনীর বিশেষ বাসে করে বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বাসের ভেতরে চালক ও যাত্রীদের মাঝে তৈরি করা হয়েছিল অস্থায়ী সুরক্ষা প্রাচীর। প্রথম দফায় ১৪ জন স্প্যানিশ নাগরিককে মাদ্রিদে পাঠিয়ে সামরিক হাসপাতালে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের জন্য আলাদা বিমানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মৃত্যু ও সংক্রমণের কারণ

এই প্রমোদতরিতে হান্টাভাইরাস সংক্রমণের ফলে এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, যাঁদের মধ্যে এক ডাচ দম্পতি ও একজন জার্মান নারী রয়েছেন। সাধারণত ইঁদুর বা এ জাতীয় প্রাণীর মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়ালেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে, এমভি হোন্ডিয়াসের যাত্রীদের মধ্যে ‘এন্ডিজ ভাইরাস’ পাওয়া গেছে। হান্টাভাইরাসের এই বিশেষ ধরনটি মানুষের শরীর থেকে মানুষের শরীরে ছড়াতে সক্ষম, যা বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। গত ১ এপ্রিল আর্জেন্টিনার উশুয়াইয়া বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করা এই জাহাজটিতে যাত্রাপথেই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রশাসন ও বিশেষজ্ঞদের পদক্ষেপ

ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ প্রশাসন জানিয়েছে, প্রতিকূল আবহাওয়ার আশঙ্কায় সোমবারের মধ্যে উদ্ধার কাজ শেষ করতে হবে। স্পেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনিকা গার্সিয়া জানিয়েছেন, স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বৈজ্ঞানিক প্রোটোকল মেনে এই অভিযান চালানো হচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রোস আধানম ঘেব্রেইয়াসাস বন্দরে উপস্থিত ছিলেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এটি অত্যন্ত বিরল ও ঝুঁকিপূর্ণ সংক্রমণ হলেও বর্তমানে বিশ্বব্যাপী বড় কোনো মহামারির আশঙ্কা নেই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্পেন সরকার আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *