মাত্র ৪০ টাকা লিটার! প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে পেট্রোল বানিয়ে তাক লাগিয়ে দিলেন হায়দ্রাবাদের ইঞ্জিনিয়ার – এবেলা

মাত্র ৪০ টাকা লিটার! প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে পেট্রোল বানিয়ে তাক লাগিয়ে দিলেন হায়দ্রাবাদের ইঞ্জিনিয়ার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বিশ্বজুড়ে যখন প্লাস্টিক বর্জ্য পরিবেশের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে, ঠিক তখনই এক অভিনব সমাধানের পথ দেখালেন হায়দ্রাবাদের ৪৫ বছর বয়সী মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার অধ্যাপক সতীশ কুমার। দীর্ঘ প্রচেষ্টায় তিনি এমন এক প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন, যার মাধ্যমে পরিত্যাক্ত প্লাস্টিক থেকে উৎপাদন করা হচ্ছে উচ্চমানের জ্বালানি। বর্তমানে তার ছোট কারখানায় প্রতি ৫০০ কেজি প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে প্রায় ৪০০ লিটার তেল তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে।

পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী প্রযুক্তি

এই জ্বালানি তৈরির পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয় ‘প্লাস্টিক পাইরোলাইসিস’ নামক বিশেষ পদ্ধতির মাধ্যমে। তিন স্তরের এই প্রক্রিয়ায় ভ্যাকুয়াম সিস্টেম ব্যবহার করায় বায়ুদূষণের কোনো ঝুঁকি থাকে না। অধ্যাপক সতীশ জানান, এই পদ্ধতিতে কোনো জলর প্রয়োজন হয় না এবং কোনো ক্ষতিকর বর্জ্যও উৎপন্ন হয় না। বর্তমানে বাজারে জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী দামের তুলনায় তিনি মাত্র ৪০ টাকা প্রতি লিটার দরে এই উদ্ভাবিত তেল বিক্রি করছেন।

ভবিষ্যৎ ও টেকসই প্রভাব

২০১৬ সাল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ টন অ-পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিককে জ্বালানিতে রূপান্তরিত করেছেন এই উদ্ভাবক। তার লক্ষ্য কেবল ব্যবসায়িক মুনাফা নয়, বরং পৃথিবী থেকে বিষাক্ত প্লাস্টিক কমিয়ে আনা। এই উদ্ভাবনটি সফলভাবে বৃহদাকারে প্রয়োগ করা সম্ভব হলে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষণ কমবে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের জ্বালানি খরচও অর্ধেকে নেমে আসবে। তবে বাণিজ্যিক ব্যবহারের আগে এই জ্বালানি যানবাহনের ইঞ্জিনের জন্য কতটা উপযোগী, তা নিয়ে আরও বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

এক ঝলকে

  • হায়দ্রাবাদের ইঞ্জিনিয়ার সতীশ কুমার প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে সাশ্রয়ী পেট্রোল ও ডিজেল তৈরি করছেন।
  • প্লাস্টিক পাইরোলাইসিস প্রযুক্তিতে প্রতি ৫০০ কেজি বর্জ্য থেকে ৪০০ লিটার জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে।
  • বর্তমানে এই জ্বালানি প্রতি লিটার মাত্র ৪০ টাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে।
  • পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব এবং কোনো প্রকার বায়ুদূষণ ঘটায় না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *