মাধ্যমিকে নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের জয়জয়কার, মেধা তালিকায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার আধিপত্য

মাধ্যমিকে নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের জয়জয়কার, মেধা তালিকায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার আধিপত্য

২০২৬ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষায় অভাবনীয় সাফল্যের নজির গড়ল নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যালয়। আজ প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, রাজ্যের মেধা তালিকায় প্রথম দশের মধ্যেই স্থান করে নিয়েছে এই স্কুলের সাত রত্ন। প্রতিবছরের মতো এবারও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রেখে মিশনের ছাত্ররা প্রমাণ করল যে, কঠোর পরিশ্রম এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশই সাফল্যের চাবিকাঠি। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার এই সাফল্যে খুশির হাওয়া ছড়িয়ে পড়েছে সমগ্র শিক্ষামহলে।

মিশনের সাত রত্ন ও মেধার লড়াই

নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের কৃতিদের মধ্যে ৬৯৫ নম্বর পেয়ে রাজ্যে তৃতীয় হয়েছে সৌর জানা। এছাড়া পঞ্চম স্থানে সমন্তক কুণ্ডু, সপ্তম স্থানে সমজ্যোতি দাস এবং অষ্টম স্থানে যুগ্মভাবে জায়গা করে নিয়েছে জীবিতেশ কায়াল ও সৌম্যকান্ত কুইল্যা। নবম ও দশম স্থানে যথাক্রমে ঐশিক চক্রবর্তী ও অনুরাগ মণ্ডলের নাম উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। ছাত্রদের এই ধারাবাহিক সাফল্যের নেপথ্যে বিদ্যালয়ের মহারাজ ও শিক্ষকদের নিরলস দিকনির্দেশনা এবং আবাসিক জীবনের কঠোর অনুশাসনই প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।

জেলায় নারীশক্তির জয়গান

মিশনের ছাত্রদের জয়জয়কারের মাঝেই দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার মুখ উজ্জ্বল করেছে সোনারপুর সারদা বিদ্যাপীঠের ছাত্রী বিদিশা হালদার। ৬৯২ নম্বর পেয়ে রাজ্যে ষষ্ঠ স্থান অধিকার করেছে সে। জেলার সামগ্রিক ফলাফলে মেয়েদের এই কৃতিত্ব বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাসের হার ৮৬.৮৩ শতাংশ, যেখানে জেলাভিত্তিক লড়াইয়ে শহর কলকাতাকে পেছনে ফেলে জেলাগুলোর দাপট আবারও স্পষ্ট হয়েছে।

এই বিপুল সাফল্যের ফলে ভবিষ্যতে রাজ্যের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও আবাসিক শৃঙ্খলা ও নিবিড় পাঠদানের পদ্ধতিতে অনুপ্রাণিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। মেধা তালিকায় জেলার এই একাধিপত্য আগামী দিনে গ্রামীণ ও মফস্বল এলাকার পড়ুয়াদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে তুলবে।

এক ঝলকে

  • ২০২৬ সালের মাধ্যমিকের মেধা তালিকায় নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের সাত ছাত্র জায়গা করে নিয়েছে।
  • ৬৯৫ নম্বর পেয়ে রাজ্যে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে মিশনের ছাত্র সৌর জানা।
  • সোনারপুর সারদা বিদ্যাপীঠের বিদিশা হালদার ৬৯২ নম্বর পেয়ে রাজ্যে ষষ্ঠ স্থান অর্জন করেছে।
  • এবারের পরীক্ষায় পাসের হার ৮৬.৮৩ শতাংশ এবং ছাত্রদের তুলনায় পাশের হারে এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *