মানালিতে তুষার-তাণ্ডব: পর্যটকদের স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্ন, গাড়িতেই কাটছে রাত – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
হিমাচল প্রদেশের চিরচেনা পর্যটন কেন্দ্র মানালির রূপ এখন রীতিমতো ভয়ঙ্কর। যে বরফ দেখার আশায় দেশজুড়ে পর্যটকরা ভিড় জমিয়েছিলেন, সেই বরফই এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত কয়েক দিনের লাগাতার ভারী তুষারপাতে বিপর্যস্ত পাহাড়ি জনজীবন। যানজট এতটাই ভয়াবহ যে, হাড়কাঁপানো ঠান্ডার মধ্যে পর্যটকদের রাত কাটাতে হচ্ছে গাড়ির ভেতরেই।
স্তব্ধ শৈলশহর: ৮ কিমি দীর্ঘ যানজট
কোঠি থেকে মানালি পর্যন্ত প্রায় আট কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তা এখন কার্যত পার্কিং লটে পরিণত হয়েছে। তুষারপাতের জেরে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ায় এবং বরফের স্তূপ জমে থাকায় গাড়ি চলাচলের উপায় নেই। শুধু মানালি নয়, সিমলার কাছে ঢাল্লি এবং হিন্দুস্তান-তিব্বত রোডও এখন বরফের চাদরে ঢাকা। ফলে শত শত পর্যটক মাঝরাস্তায় আটকে পড়েছেন। অনেক পর্যটক হোটেলের ঘর না পেয়ে বা যানজটে ফেঁসে গিয়ে নিজেদের গাড়ি কিংবা ট্রাভেলারেই রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন।
আবহাওয়া দপ্তরের কড়া সতর্কতা
পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে মৌসম ভবনের পূর্বাভাস। জানানো হয়েছে, পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে ২৬ থেকে ২৮ জানুয়ারির মধ্যে হিমাচলে আরও ব্যাপক তুষারপাত ও বৃষ্টি হতে পারে। এই আশঙ্কায় রাজ্য প্রশাসন একাধিক জেলায় ‘ইয়েলো অ্যালার্ট’ জারি করেছে। কাংরা, মান্ডি, সোলান, উনা, বিলাসপুর, হামিরপুর ও সিরমৌরে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।
রাজ্যজুড়ে অবরুদ্ধ ৬০০-র বেশি রাস্তা
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তুষারপাতের জেরে রাজ্যের ৬৮৫টি রাস্তা বর্তমানে বন্ধ। এর মধ্যে লাহুল-স্পিতি জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত, যেখানে ২৯২টি রাস্তা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন। চাম্বা, মান্ডি এবং কুলু জেলাতেও যাতায়াত ব্যবস্থা লাটে উঠেছে। সিমলা জেলার নরখান্ডা, জুব্বাল ও কোটখাইয়ের মতো এলাকাগুলো মূল ভূখণ্ড থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল বিভীষিকার ছবি
নেটমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বরফে ঢাকা পড়ে গেছে সারি সারি গাড়ি। কোথাও পিচ্ছিল রাস্তায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি গাড়ি অন্যটিকে ধাক্কা মারছে। এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির জন্য অনেক নেটিজেন পর্যটকদের খামখেয়ালিপনাকেই দায়ী করছেন। সতর্কবার্তা থাকা সত্ত্বেও কেন পর্যটকরা এমন পরিস্থিতিতে পাহাড়ে ভিড় বাড়ালেন, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। হিমাঙ্কের নিচের তাপমাত্রায় খোলা আকাশের নিচে গাড়িতে আটকে থাকা পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে এখন চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

