‘মানুষ দু-হাত ভরে আশীর্বাদ করেছেন, এবার কাজ করার পালা!’ পরিবর্তনের পর প্রথম চা-চক্রে হুঙ্কার দিলীপের

‘মানুষ দু-হাত ভরে আশীর্বাদ করেছেন, এবার কাজ করার পালা!’ পরিবর্তনের পর প্রথম চা-চক্রে হুঙ্কার দিলীপের

খড়্গপুর: ১৫ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বাংলায় রাজনৈতিক পটপরিবর্তন সম্পন্ন হয়েছে। বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসার পরদিন সকালেই নিজস্ব মেজাজে ধরা দিলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। খড়্গপুরে চিরাচরিত ‘চা-চক্রে’ যোগ দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, মানুষ যে প্রত্যাশা নিয়ে বিজেপিকে আশীর্বাদ করেছে, তা পূরণে এখন থেকেই কোমর বেঁধে নামতে হবে। তাঁর মতে, সরকার গঠনের পর কাজ করার জন্য যে সময়টুকু পাওয়া যায়, তাকে পূর্ণ সদ্ব্যবহার করাই এখন মূল লক্ষ্য।

উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানেই অগ্রাধিকার

নবনির্বাচিত সরকারের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করে দিয়ে দিলীপ ঘোষ জানান, বাংলার হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, বাংলার মানুষ একজন বাঙালি মুখ্যমন্ত্রীকেই পেতে চলেছেন। নতুন সরকারের লক্ষ্য হবে রাজ্যের বেকার যুবকদের জন্য স্থায়ী কর্মসংস্থান তৈরি করা এবং থমকে যাওয়া উন্নয়নকে গতিশীল করা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি বাংলার মানুষের আস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি মোদিকে ‘কৃষ্ণের’ সঙ্গে তুলনা করেন, যাঁর দিশা মেনেই এই রাজনৈতিক জয় সম্ভব হয়েছে।

আরজি কর এবং জনরোষের প্রভাব

নির্বাচনী জয়কে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন এই প্রবীণ নেতা। বিশেষ করে আরজি কর হাসপাতালের মর্মান্তিক ঘটনা এবং ‘অভয়ার’ পরিবারের প্রতি প্রশাসনের আচরণের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ওই ঘটনা বাংলার বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছিল। জনতার এই রায় আসলে সেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে একটি কঠোর জবাব। মানুষের এই বিপুল প্রত্যাশাকে সম্মান জানিয়েই দলকে আগামী দিনে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

পরবর্তী পদক্ষেপ ও দায়বদ্ধতা

দিলীপ ঘোষের মতে, ১৫ বছর পর এই বদল কেবল ‘প্রত্যাবর্তন’ নয়, বরং প্রকৃত ‘পরিবর্তন’। দল তাঁকে যখন যে দায়িত্ব দিয়েছে, তিনি তা নিষ্ঠার সাথে পালন করেছেন বলে দাবি করেন। খড়্গপুরের জয় প্রসঙ্গে তিনি জানান, মানুষের আশীর্বাদকে শিরোধার্য করে দলকেও এখন সতর্কভাবে পথ চলতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে বাংলার ভোল বদলে দেওয়ার যে অঙ্গীকার করা হয়েছিল, তা পূরণ করাই এখন গেরুয়া শিবিরের সামনে সবথেকে বড় পরীক্ষা। জনতা ভোট দিয়ে তাদের কাজ করেছে, এবার পালা নতুন সরকারের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *