মান পরীক্ষায় ডাহা ফেল প্যারাসিটামল সহ ১৫৭টি জীবনদায়ী ওষুধ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রোগ নিরাময়ের জন্য প্রতিদিন যে ওষুধের ওপর মানুষ চোখ বুজে ভরসা করেন, সেই আস্থাই এবার বড়সড় প্রশ্নের মুখে পড়েছে। সেন্ট্রাল ড্রাগস অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (CDSCO)-এর সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। চলতি বছরের মে মাসে সংগৃহীত নমুনার গুণগত মান পরীক্ষায় প্যারাসিটামল, সুগার, প্রেশার ও গ্যাসের ওষুধ সহ মোট ১৫৭টি ওষুধের নমুনা ডাহা ফেল করেছে।
প্রতি মাসে বাজারে বিক্রি হওয়া ওষুধের নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পরীক্ষা করে সরকারি এই নিয়ন্ত্রক সংস্থা। মে মাসের পরীক্ষায় দেখা যায়, ওই ১৫৭টি ওষুধ নির্ধারিত মানের চেয়ে অনেকটাই নিম্নমানের। এই ব্যর্থতার কারণ হিসেবে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কিছু ওষুধে রোগ নিরাময়ের জন্য প্রয়োজনীয় ‘ড্রাগ সল্ট’ সঠিক পরিমাণে দেওয়া ছিল না। আবার কিছু ক্ষেত্রে ওষুধের সংমিশ্রণ বা ফর্মুলেশন সম্পূর্ণ ভুল ছিল।
তালিকার শীর্ষে পরিচিত সব নাম
যে ওষুধগুলো মান পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে জ্বর ও ব্যথার জন্য বহুল ব্যবহৃত প্যারাসিটামল, ডাইক্লোফেনাক ও ডাইক্লোফেনাক জেল। পাশাপাশি কাশির ডেক্সট্রোমেথরফান সিরাপ এবং শ্বাসকষ্টের টিওট্রোপিয়াম ইনহেলারও এই তালিকায় রয়েছে। দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষের রোজকার সঙ্গী গ্যাসের ওষুধ প্যান্টোপ্রাজল, ওমেপ্রাজল, ডায়াবেটিসের ওষুধ মেটফর্মিন ও গ্লাইমিপিরিড এবং প্রেশার ও হৃদরোগের ওষুধ টেলমিসার্টান, অ্যামলোডিপাইন বা অ্যাসপিরিন ৭৫ মিলিগ্রামও গুণগত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি। কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধ রোসুভাস্টাটিনও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত।
জনস্বাস্থ্যে বড়সড় প্রভাবের শঙ্কা
এই রিপোর্টের জেরে সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। রোগীরা যে ওষুধগুলোকে রক্ষাকবচ ভেবে নিয়মিত সেবন করছেন, ভুল সংমিশ্রণ ও অপর্যাপ্ত সল্টের কারণে সেগুলো শরীরে কোনো কাজই করছে না বা নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। শুধু খাওয়ার ওষুধই নয়, সিপলা ও সান ফার্মার মতো নামিদামি কো ম্পা নির তৈরি ওআরএস, সার্জিক্যাল স্পিরিট, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, ব্যান্ডেজ এবং তুলোর মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় মেডিক্যাল সামগ্রীও মান পরীক্ষায় ফেল করেছে, যা সামগ্রিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থায় এক গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
