“মামলা খারিজ হলেও মুখ বন্ধ করা যাবে না!” স্পিকারের দরবারে যাওয়ার হুঁশিয়ারি বিস্ফোরক কুণালের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: বিধানসভায় বক্তব্য রাখার অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া ও সাংবিধানিক অধিকার খর্ব করার অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেছিলেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তবে শুক্রবার বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের বেঞ্চ সেই মামলা খারিজ করে দেয়। আদালতের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ ছিল—বিধানসভার অভ্যন্তরীণ বিষয় বিধানসভার অন্দরেই মেটাতে হবে, এ বিষয়ে আদালতে মামলা গ্রহণযোগ্য নয়।
আইনি ধাক্কা খেলেও দমে যাওয়া তো দূর, আরও আক্রমণাত্মক মেজাজে ধরা দিলেন বেলেঘাটার এই বিধায়ক।
হাইকোর্টের রায়ের পর সংবাদ সম্মেলনে সুর চড়িয়ে কুণাল ঘোষ দাবি করেন, মামলা খারিজ হলেও তাঁর ওপর চলা অন্যায়ের প্রতিবাদ থামবে না। তিনি বলেন, “আমার মামলা খারিজ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু আমাকে বলতে দেওয়া হচ্ছে না। কৌশলে আমার কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে।” তিনি জানান, পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে হাইকোর্টের রায়ের কপি নিয়ে তিনি সরাসরি বিধানসভার স্পিকারের কাছে যাবেন। কুণালের হুঁশিয়ারি, “আমি স্পিকারের কাছে যাব। তারপরও যদি শুনানি না হয়, তবে আমি ফের হাইকোর্টের দ্বারস্থ হব।” একই সঙ্গে দলের শৃঙ্খলার সঙ্গে জনপ্রতিনিধির বাকস্বাধীনতার সংঘাত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
সাংবাদিক বৈঠকে শুধু প্রতিপক্ষই নয়, নাম না করে নিজের দলের অন্দরের একাংশ ও বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধেও বেনজির তোপ দাগেন কুণাল। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “গদ্দার টিম ১ গেছে প্রধানমন্ত্রীর কাছে, গদ্দার টিম ২ গেছে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। আর আসল বিরোধীরা আজ বাঁকুড়ায় আশা কর্মীর বাড়িতে।” সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণাকারীদের রাজনৈতিক কেরিয়ার ভবিষ্যতে ধূলিসাৎ হয়ে যাবে বলেও তিনি দাবি করেন।
এ ছাড়াও কলকাতা পুরসভার ডিলিমিটেশন এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি প্রসঙ্গে নিজের মতামত জানান তিনি। আদালতের রায় বিপক্ষে যাওয়ার পরও কুণাল ঘোষের এমন বিস্ফোরক অবস্থান রাজ্য রাজনীতিতে ফের তীব্র জল্পনার জন্ম দিয়েছে।
