মায়ের অমূল্য শিক্ষাই জানভি কাপুরের অভিনয়ের মূল চাবিকাঠি! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
প্রয়াত কিংবদন্তি অভিনেত্রী শ্রীদেবীর সুযোগ্য কন্যা জানভি কাপুর বলিউডে নিজের অবস্থান তৈরি করতে প্রতিনিয়ত লড়াই করছেন। আসন্ন তেলুগু ছবি ‘পেড্ডি’-র মুক্তির অপেক্ষায় থাকা এই অভিনেত্রী সম্প্রতি তাঁর মায়ের দেওয়া পারিবারিক মূল্যবোধ এবং অভিনয়জীবনের এক অমূল্য শিক্ষা নিয়ে আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেছেন। ক্যামেরার ঝলমলে দুনিয়ার পেছনে শ্রীদেবী কেমন মা ছিলেন এবং তাঁর আদর্শ কীভাবে জানভিকে প্রভাবিত করছে, তা আজ প্রকাশ্য। জানভির মতে, মায়ের দেওয়া সবচেয়ে বড় শিক্ষা ছিল— ক্যামেরার সামনে কখনও মিথ্যা বলা যায় না, অভিনয়ের সত্যতা ফুটিয়ে তুলতে হলে আগে একজন ভালো মানুষ হওয়া জরুরি।
তারকাখ্যাতির আড়ালে এক সাধারণ মা
শ্রীদেবী মাত্র চার বছর বয়সে অভিনয় জীবন শুরু করে ভারতীয় চলচ্চিত্রের মেগাস্টারে পরিণত হয়েছিলেন। তবে ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত লাজুক ও সংসারী। ক্যারিয়ারের শীর্ষ সময়ে এসেও তিনি পরিবার ও সন্তানদের প্রাধান্য দিতে অভিনয় থেকে সাময়িক বিরতি নিয়েছিলেন। ‘ইংলিশ ভিংলিশ’ ছবির শুটিংয়ের সময় স্বামী বনি কাপুর ও ছোট মেয়ে খুশি কাপুরের জন্মদিনে উপস্থিত থাকতে না পেরে শ্রীদেবী প্রতিদিন ফোনে কাঁদতেন। এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, রূপালী পর্দার এক নম্বর তারকা হওয়া সত্ত্বেও পরিবারের প্রতি তাঁর টান ছিল কতটা গভীর। মায়ের এই মানবিক দিক এবং রান্নাবান্না ও স্বামীর যত্ন নেওয়ার মতো সাধারণ কাজের মধ্যে সুখ খোঁজার মানসিকতা জানভিকে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করে।
উত্তরাধিকার রক্ষা ও শূন্যতার প্রভাব
দক্ষিণী তারকা রাম চরণের সাথে কাজ করতে গিয়ে জানভি লক্ষ্য করেছেন, চিরঞ্জীবী এবং শ্রীদেবীর কাজের প্রতি নিষ্ঠা ও শৃঙ্খলার মধ্যে এক অদ্ভুত মিল রয়েছে। তবে মায়ের সঙ্গে নিজের তুলনার প্রসঙ্গে জানভি অত্যন্ত স্পষ্ট; তিনি মনে করেন শ্রীদেবীর স্থান কেউ নিতে পারবে না। তাঁর একমাত্র লক্ষ্য মায়ের রেখে যাওয়া গৌরবকে সম্মান জানানো এবং নিজের মতো করে এগিয়ে যাওয়া। ২০১৮ সালে শ্রীদেবীর আকস্মিক মৃত্যুর পর তৈরি হওয়া শূন্যতা জানভি আজও কাটিয়ে উঠতে পারেননি। তিনি জানিয়েছেন, শুটিংয়ের সময় ক্যামেরার সামনে এবং তিরুপতি মন্দিরে গেলে তিনি মায়ের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি অনুভব করেন। মায়ের এই আদর্শ ও প্রভাব আগামী দিনে জানভিকে একজন পরিপক্ক ও সংবেদনশীল অভিনেত্রী হিসেবে ইন্ডাস্ট্রিতে আরও দৃঢ় অবস্থানে নিয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
