মালদহের আমের বিশ্ববাজার দখল! ১৫ থেকে একলাফে ৩০০ টন রপ্তানির মেগা টার্গেট

বাংলার আমের বিশ্বজয়ের পথে এক বড় পদক্ষেপ নিল মালদহ জেলা। জেলার সুস্বাদু আমের স্বাদ বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিতে এবার কোমর বেঁধে নেমেছে জেলা উদ্যানপালন দপ্তর এবং কেন্দ্রীয় উপক্রান্তীয় উদ্যানপালন প্রতিষ্ঠান (CISH)। গত বছরের তুলনায় এবার আমের রপ্তানির পরিমাণ কয়েক গুণ বাড়িয়ে এক অভাবনীয় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
রপ্তানির জ্যামিতিক বৃদ্ধি
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর মালদহ থেকে বিদেশে মাত্র ১৫ টন আম রপ্তানি করা হয়েছিল। কিন্তু ২০২৬ সালের মরশুমে সেই ছবিটা আমূল বদলে যেতে চলেছে। ইতিমধ্যেই ইংল্যান্ড এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৩০০ টন আমের বরাত মিলেছে। এই বিপুল চাহিদাই প্রমাণ করে যে বিশ্ববাজারে মালদহের আমের জনপ্রিয়তা কতটা তুঙ্গে।
গুণমান বজায় রাখতে জৈব পদ্ধতিতে জোর
আন্তর্জাতিক বাজারের কড়া নিয়ম ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে এবার আমের গুণমানের ওপর বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। রপ্তানির জন্য নির্দিষ্ট আমগুলি যাতে সম্পূর্ণ রাসায়নিকহীন হয়, তা নিশ্চিত করতে ‘গুড এগ্রিকালচারাল প্র্যাকটিস’ (GAP) অনুসরণ করা হচ্ছে। প্রায় ৭৫ হেক্টর আম বাগানকে এই বিশেষ রপ্তানি প্রক্রিয়ার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। রাসায়নিকমুক্ত আম উৎপাদনই এই উদ্যোগের সাফল্যের চাবিকাঠি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আমচাষিদের মুখে হাসিতে নতুন দিশা
এই বিশাল রপ্তানি প্রকল্পের ফলে কেবল বাংলার আম ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে না, বরং সরাসরি লাভবান হবেন স্থানীয় আমচাষিরা। আন্তর্জাতিক বাজারে সরাসরি আম পাঠানোর সুযোগ আসায় মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে এবং চাষিরা তাঁদের ফসলের সঠিক ও লাভজনক দাম পাবেন। এতে মালদহের সামগ্রিক অর্থনীতিতে এক নতুন জোয়ার আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।
